নোয়াখালীর সুবর্ণচরে খাসজমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার সাংবাদকর্মী ও মোবাইল ছিনিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জন দুর্ভোগ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি  :  নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সকাল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরবর্তী অবস্থার ফলোআপ রিপোর্টের তথ্যে সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণচর উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম হেনস্তার শিকার হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন

ভূমিদস্যু চক্রটি সাংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেই এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে অপপ্রচারে নেমেছে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে।

গত সোমবার (১৬ মার্চ) ‎উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার ভূঁইয়ারহাট বাজার ইসলামী ব্যাংকের বুথের বিপরীতে সরকারী খাস খতিয়ানের অন্তরভূক্ত ২১৪৯ দাগে সড়কের পাশে উচ্ছেদকৃত স্থানে সকালবেলা এই ঘটনাটি ঘটে।

‎ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদার নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু ও তাঁর অনুসারীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

‎স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভূঁইয়ারহাট বাজারে সরকারি খাস জমি দখল করে দোকান ভিটি নির্মাণের কাজ চলমান রেখেছে ওসমান গনি নামের এক ব্যক্তির পরিবার। উপজেলা প্রশাসন থেকে উক্ত নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রশাসনকে লাল কার্ড দেখিয়ে টিনের ছাউনির বিতরে ‘সজীব অটো পার্টস’ নামের ২টি দোকানের ভেতরে গোপনে রাজমিস্ত্রিরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো এমন সংবাদ পাওয়া যায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফলোআপ রিপোর্টের তথ্যে সংগ্রহের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছবি-ভিডিও ধারণ করে সাংবাদিক তাজুল ইসলাম।

ঘটনাস্থলে থেকে ছবি তোলার সময় সজীব অটোর মালিকের ছোট ভাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার রাজিব হঠাৎ সাংবাদিক তাজুলের হাত থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। এসময় রাজিব নিজের ফোন দিয়ে সাংবাদিকের ভিডিও ধারণ করেন এবং উল্টো তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করতে এসেছেন বলে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করেন।

একাধিক স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ‎পরবর্তীতে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা ঘটনাস্থলে এসে রাজিবের কাছ থেকে ওই ভিডিওটি সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে।

‎ঘটনার কিছুক্ষণ পর নুরুল হুদার মোটরসাইকেল ড্রাইবার মাসুম হোসেন রাজু তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভিডিওটি পোস্ট সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেই।

স্থানীয় একাধিক ‎সংবাদকর্মীরা জানান, পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের কাজ। স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে যে, ওই অবৈধ দোকান ভিটি দখল ও নির্মাণ সচল রাখতে নুরুল হুদা বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন এবং তাঁর ছত্রছায়ায় ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

‎এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাজুল ইসলাম বলেন, “আমি প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে কাজ করার ছবি তুলতে গেলে তারা আমার ওপর চড়াও হয়। আমার ফোন কেড়ে নিয়ে তারা নিজেরাই নাটক সাজিয়ে ভিডিও করে এবং সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছেন নিজের লোকজন দিয়ে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই প্রশাসনের তরফ হতে।”


বিজ্ঞাপন

‎বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, রাত্রে আমি এমন একটা অভিযোগ পেয়েছি। এন্ডুস করেছি। কোন এক অফিসার যাবে। যে অফিসারের নামে দেওয়া হয়েছে সে যাবে। মুনশিকে বলে দিচ্ছি যে অফিসার তদন্ত করছে সে যাবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার্থে সক্রিয়তা আইনি সহায়তা দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমার দায়িত্ব নয়, এটা উদ্ধার করা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কাজ।

আমার কাজ হল অভিযোগকারী কে তাকে কেউ হুমকি থ্রেট দিয়েছে কিনা। ভিন্ন অন্য কোন বিষয় আছে কিনা খতিয়ে দেখা। আইনি সংক্রান্ত কোন বিষয় হলে তাহলে আমি বিষয়টি দেখব সেটা আমার দায়িত্ব।

এদিকে একজন সংবাদকর্মীকে পেশাগত কাজে বাধা প্রদান ও সম্মানহানির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা বিরাজ করছে। ফ্যাসিস্ট শাসন আমলের মতো গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ রেখে কেউ কেউ সত্য প্রকাশে বাধাঁ অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে জোর দাবি জানান স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা।

👁️ 81 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *