
আমিনুল ইসলাম বুলবুল, (মুন্সীগঞ্জ) : শিশুদের হাসি, করতালির উচ্ছ্বাস আর বিজয়ের রঙিন আবেগে আজ যেন উৎসবের রূপ নিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রাঙ্গণ। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি দিনভর আনন্দ, ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুরু থেকেই যেন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল এক ধরনের শিহরণ—ছোট্ট শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, অভিভাবকদের উচ্ছ্বাস আর শিক্ষকদের গর্ব মিলে সৃষ্টি করে এক আবেগঘন পরিবেশ। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিল জয়ের স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন ছুঁতে গিয়ে শিশুদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল অদম্য সাহস আর নির্মল আনন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সাঈদ শুভ্র, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ উল্লাহ। এছাড়াও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

প্রধান অতিথি রুম্পা ঘোষ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের আশ্বাস দিয়েছেন।তার এ বক্তব্য ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের কমতি ছিল না।

এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। অন্যান্য বক্তারাও তাঁদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলাবোধে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য আহবান জানান ,বিদ্যালয়ের প্রশংসার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। তাঁর আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি এখন অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
একসময় যে স্কুলটি ছিল নিভৃত, আজ তা শিক্ষার আলোয় আলোকিত—এই পরিবর্তনের গল্প যেন অনুপ্রেরণা হয়ে ধরা দেয় সবার মাঝে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টি এখন জেলার আলোচনার কেন্দ্রে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার শিক্ষা জরিপে দক্ষ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রধান শিক্ষককে ঘিরে ছিল আলাদা আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালোবাসায় তিনি হয়ে ওঠেন অনুষ্ঠানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
দিনের শেষ প্রান্তে যখন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তখন প্রতিটি মুখে ফুটে ওঠে স্বপ্নপূরণের হাসি। কেউ জিতেছে পদক, কেউ পেয়েছে উৎসাহ—কিন্তু হারেনি কেউই; কারণ এই আয়োজন শিখিয়েছে চেষ্টা, সাহস আর এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
সব মিলিয়ে, এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়—এ যেন শিশুদের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের রঙিন সম্ভাবনার এক আবেগঘন উদযাপন।
