গোপালগঞ্জের কোটালি পাড়ায় কম্বল দেওয়ার নামে স্বাক্ষর নিয়ে বদলীর আবেদনের অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

​মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী৷ :  গোপালগঞ্জের  কোটালিপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘর কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বদলীর আবেদনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ৩/১২/২০২৫ তারিখে ১৭৩ জন অভিভাবকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন জমা দেওয়া হলেও সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি মূলত একটি কুচক্রী মহলের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।


বিজ্ঞাপন

​অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ-এর বিরুদ্ধে করা ওই আবেদনে সাধারণ অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অভিযোগনামার একাধিক স্বাক্ষরকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে শিক্ষিকার বিষয়ে কোনো কিছুই জানানো হয়নি। উল্টো শীতবস্ত্র বা ‘কম্বল দেওয়া হবে’—এমন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টিপসই ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।

​হাজেরা বেগম নামে এক নারী জানান, তাঁর দুই ছেলে খাইরুল এবং রবিউলের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে কিছু না জানিয়েই। তাদেরকেও কম্বল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এমনকি অভিযোগনামায় স্বাক্ষর জাল করার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটেছে।


বিজ্ঞাপন

তালিকার ১৪০ নম্বর ক্রমিকে মরিয়ম নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর স্বাক্ষর দেখানো হলেও মরিয়ম নিজে জানিয়েছেন, তিনি কোনো স্বাক্ষর করেননি। ১৯ নম্বর ক্রমিকে দেখানো রহমান মামুন নামের এক ব্যক্তি, যিনি মূলত অশিক্ষিত এবং কেবল নামটুকু লিখতে পারেন, তিনিও জানিয়েছেন যে তিনি এমন কোনো আবেদনে সই করেননি। এছাড়া ৭০ নম্বর ক্রমিকে আদুরী নামে এক মহিলার নাম থাকলেও তিনি জানান, তিনি স্বাক্ষর করতেই জানেন না।


বিজ্ঞাপন

​স্কুলটির সার্বিক পরিবেশ নিয়েও পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ৯২ জন ছাত্রছাত্রীর নাম তালিকায় থাকলেও সরেজমিনে মাত্র ২১ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে স্কুলে মাত্র ২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে দীপক গাইন নামে এক শিক্ষক জানান, তিনি মাত্র তিন দিনের জন্য মৌখিক ডেপুটেশনে সেখানে এসেছেন।

আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, স্কুলের পেছনে বাড়ি—এমন ফাহিমা নামের এক বহিরাগত মেয়েকে দিয়ে সেখানে শিক্ষকতা করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ প্রতারণামূলক আবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বেআইনি ও বিধি বর্হিভূতভাবে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে মৌখিক ডেপুটেশনে অন্যত্র বদলী করেছেন। তার পরিবর্তে এখানে যাকে দিয়েছেন তিনি এখানে যোগদান না করে চিকিৎসা ছুটিতে গেছেন।

​এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত তাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে সাক্ষাৎকার দিতে নিষেধ করেছেন।

​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষিকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই ভুয়া গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

👁️ 23 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *