
মেঘনা পেট্রোলিয়াম এর বাঘাবাড়ির মিটার রিডার আব্দুল হাই লিটন সরকার।বিশেষ প্রতিবেদক : চাকরির পদবি মাত্র মিটারম্যান। কিন্তু প্রভাব-প্রতিপত্তি আর কথিত নিয়োগ বাণিজ্যের জোরে যেন পুরো ডিপো নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি!

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বাঘাবাড়ি ডিপোতে কর্মরত আব্দুল হাই লিটন সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ দুর্নীতি, তেল চুরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাকরি দেয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডিপোতে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন লিটন সরকার। চাকরিতে তার পদবি মিটারম্যান হলেও বাস্তবে তিনি বারবার গেজার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তেল চুরি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় একপর্যায়ে তাকে গেজারের দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেয়া হয়।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় বাঘাবাড়ি ডিপোতে তার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রভাব খাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর একধরনের আধিপত্য বিস্তার করতেন তিনি। তার আচরণে ডিপোর অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন বলেও জানা গেছে।

তিন ডিপো ঘিরেই রহস্যময় কর্মকাণ্ড : বাঘাবাড়ি, গোধনাইল ও নাটোর—এই তিন ডিপোতেই ঘুরেফিরে চাকরি করেছেন আব্দুল হাই লিটন সরকার। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রতিটি ডিপো ইনচার্জের কাছেই তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক লিখিত অভিযোগ। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অনিয়ম, তেল চুরি, দায়িত্বে অবহেলা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মতো গুরুতর বিষয়।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এসেছে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে। অভিযোগকারীদের একজন শামীম হোসেন সাদ্দাম। তার বাড়ি পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার খাগাড়বাড়িয়া গ্রামে।
তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত গোধনাইল ডিপোতে কর্মরত থাকা অবস্থায় লিটন সরকার চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল চাকরি দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাকে হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
“দশ জনের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে” : স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, শুধু শামীম হোসেন সাদ্দাম নন—এমন অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন লিটন সরকার। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকেই লাখ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি।
অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ বেকার যুবকদের সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি প্রতারণার জাল তৈরি করেছিলেন তিনি। আর সেই জালের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু পরিবার।
তদন্তের দাবি
এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও রহস্যজনক কারণে আব্দুল হাই লিটন সরকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন মিটারম্যান কীভাবে বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে এত প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম চালিয়ে যেতে পারেন?
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং চাকরি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
