দিল্লি না ঢাকা’ বিতর্কের মুখ্য কণ্ঠদের জন্য ভিসা সহজ, সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য কেন কঠিন? প্রশ্নের কেন্দ্রে সাংবাদিক সুইটি সাজেদা

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ভিসা সংকট এবং রাজনৈতিক ন্যারেটিভকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এটিএন নিউজের সাংবাদিক সুইটি সাজেদার ভারত সফর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে হাজারো বাংলাদেশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভারতীয় ভিসা পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে বিশেষ কিছু ব্যক্তি কীভাবে সহজেই সরকারি আমন্ত্রণে ভারত সফরের সুযোগ পাচ্ছেন?


বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তোলা একটি ছবিতে সাংবাদিক সুইটি সাজেদাকে কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা যায়। পোস্টদাতাদের দাবি, ওই সময় দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ন্যারেটিভ ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক যাচাই পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত আরও কয়েকটি ছবিতে সুইটি সাজেদার ভারত সফরের বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে এবং সরকারি ব্যয়ে দেশটি সফর করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোন মানদণ্ডে এমন আমন্ত্রণ ও ভিসা প্রদান করে থাকে।

সমালোচকদের ভাষ্য, বর্তমানে বহু বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন। একইভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী ভিসাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ভিসা জটিলতার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন।


বিজ্ঞাপন

এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারতীয় ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কি কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার বা ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে? যদি হয়ে থাকে, তবে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কতটুকু?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, যেসব ব্যক্তি প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বা ভারত-সংক্রান্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত, তাদের কেউ কেউ আবার সহজেই ভারত সফরের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সাধারণ আবেদনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।


বিজ্ঞাপন

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার জনগণ-স্তরের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে ভিসা নীতিতে অধিক স্বচ্ছতা প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আবেদনকারীদের জন্য সহজ ও স্পষ্ট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক সুইটি সাজেদা, ভারতীয় হাইকমিশন কিংবা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাই-বাছাই, আমন্ত্রণ নীতি বা বিশেষ কর্মসূচি অনুসরণ করা হয়, সে বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্ন ও জল্পনার অবসান ঘটাতে পারে।

প্রশ্ন এখন একটাই—যেখানে সাধারণ মানুষ ভিসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, সেখানে বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য দরজা এত সহজে কীভাবে খুলে যায়? এর উত্তর জানতে চায় অনেক বাংলাদেশি।

👁️ 22 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *