শালিখা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ, মাসে ‘১০ লাখ টাকার অবৈধ আয়’ নিয়ে তোলপাড় ! 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

মাগুরা প্রতিনিধি  :  মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অফিসটির সাব-রেজিস্ট্রার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলিল নিবন্ধনের বিভিন্ন ধাপে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দলিল লেখক।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ দলিল নিবন্ধনে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, বাস্ত জমি, বাণিজ্যিক প্লট, নাম সংশোধন কিংবা বিশেষ ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রমের বাইরে কিছু দলিল বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের উন্মুক্ত ডেস্কে নয়, বরং ব্যক্তিগত কক্ষে বসেই অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কয়েকজন মহুরী ও অফিস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) জমি-সংক্রান্ত দলিল আটকে রেখে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। একইভাবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যেখানে নির্দিষ্ট কয়েকজন মহুরী ও দালালের মাধ্যমে ঘুষের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কোনো দলিল লেখক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তার দলিল প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা, লাইসেন্স বাতিলের ভয় দেখানো কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে শহিদুল ইসলামের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাগুরা শহরে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে বহুমূল্য স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পারিবারিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগগুলো চাপা পড়ে আছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আইন মন্ত্রণালয় এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে শালিখা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

👁️ 23 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *