
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : সদ্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ঐতিহ্যগত কোনো জাঁকজমক বা তৎপরতা দেখা যায়নি।

জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলাগুলোর কোথাও দলটির নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলাজুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও সতর্ক অবস্থান লক্ষ করা গেছে।
আজ সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পরিবেশ ছিল অনেকটাই থমথমে ও শান্ত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি।

তবে সকালে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের একটি মিছিল করতে দেখা গেছে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে শহরজুড়ে পুলিশ ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং জেলা শহর মোটামুটি শান্ত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যেসব শীর্ষ সারির নেতাকর্মী মাঠ কাঁপাতেন, তাদের বড় একটি অংশই বর্তমানে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো বিশেষ দিনেও দলটির কোনো স্তরের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে আসার সাহস পাননি। মুকসুদপুর উপজেলায় দুইজনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে।
কেবল জেলা শহরেই নয়, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলাসহ জেলা সদরের কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা তাদের অঙ্গ-সহযোগী কোনো সংগঠনের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। সার্বিকভাবে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও সন্তোষজনক রয়েছে।
