মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বরখাস্ত

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ স্বাস্থ্য

নইন আবু নাঈম তালুকদার, (বাগেরহাট)  :  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ এবং শৌচাগারে সরকারি ওষুধ পাওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৫ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।


বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবনে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ এবং শৌচাগারে সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।


বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা রুজু হলে অভিযোগের গুরুত্ব, তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এবং দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা যায়।

সেই বিধান অনুযায়ী ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যার আগে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন ডা. কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে স্বাস্থ্য বিভাগ।

একই দিন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউর রহমান এবং বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, খাবারের মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। তিনি বিধি অনুযায়ী এসব ওষুধ অপসারণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে যেসব কর্মকর্তার সময়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালের পাশে থাকা ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করা হয়েছে। অন্যান্য অনিয়মের বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই প্রায় দুই ঘণ্টার আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, স্যালাইন, সুই-সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী মজুত অবস্থায় দেখতে পান। এছাড়া ভবনের শৌচাগারেও সরকারি ওষুধ ও স্যালাইনের স্তূপ পাওয়া যায়। ঘটনাটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *