
বিশেষ প্রতিবেদক : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একদল প্রভাবশালী সাংবাদিকের ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।

বিশেষ করে পিলখানা ট্র্যাজেডির অন্যতম চাক্ষুষ সাক্ষী হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ জুলাই জনতার মুখোমুখি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠতা ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য ও আইনি প্রমাণের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনার দাবি রাখে।
সাংবাদিকতা নাকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার—উঠছে প্রশ্ন : সমালোচকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের গণমাধ্যমের একটি অংশ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুবিধাভোগী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের দাবি, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থান প্রাধান্য পেয়েছে।

এই বিতর্কে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, স্বদেশ রায়, অজয় দাশগুপ্ত, সুকান্ত গুপ্ত অলক, অশোক চৌধুরী, প্রণব সাহা, রাহুল রাহা, অঞ্জন রায়, আশিস ঘোষ সৈকত, অখিল কুমার পোদ্দার, পুলক ঘটক, মানস ঘোষ, অনিমেষ কর, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, জয়দেব চন্দ্র দাস, মধুসূদন মণ্ডল, কিশোর কুমার সরকার, কমলেশ রায়, সুবাস চন্দ বাদল, রমাপ্রসাদ সরকার বাবু, সুভাস চন্দ্র সিংহ রায়, সঞ্জয় সাহা পিয়ালসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের নাম সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

সমালোচকদের একটি অংশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন :
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিদেশি প্রভাব, রাজনৈতিক লবিং এবং মতাদর্শিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কিছু সাংবাদিকের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে বিদেশি স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় তদন্ত, তথ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ জরুরি।
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ : জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তারেক রহমান সরকারের যাত্রার ১০০ দিন পূর্তির প্রেক্ষাপটে সমালোচক মহল সরকারের কাছে দাবি তুলেছে—গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক পক্ষপাত এবং সম্ভাব্য বিদেশি প্রভাবের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হোক।
তাদের দাবি, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার কাজে জড়িত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো সাংবাদিক বা নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত, আদালতের প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে হতে হবে।
গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ: আস্থা পুনর্গঠনের প্রশ্ন : রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—গণমাধ্যম কি সত্যিই জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হয়ে থাকবে?
সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা ও সত্য অনুসন্ধান। তাই অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই পারে দেশের গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করতে।
