প্রাথমিকের শিক্ষক পরিচয়ে স্কাউট প্রশিক্ষণে কলেজের সহকারী অধ্যাপক! সরকারি নথিতে ভিন্ন পরিচয়, অনুমতি ও আর্থিক সুবিধা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন ? 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক (মাদারীপুর)  :  বাংলাদেশ স্কাউটসের একটি সরকারি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে অবস্থিত শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসিবুল হাসান হাওলাদারকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।


বিজ্ঞাপন

সরকারি নথিতে তাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো, কর্মস্থল থেকে যথাযথ অনুমতি ছাড়া প্রশিক্ষণে যোগদান এবং প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট সরকারি আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ স্কাউটস, ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক স্কাউট ভবন, পল্লবী, মিরপুর থেকে স্মারক নং- ব্যাঙ্কায়দায় (প্রশিক্ষণ)/৩৯৩৮ (৮৩)/২০২৬, তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬ (৩১ আষাঢ় ১৪৩৩)-এ জারি করা এক পত্রে ১৯ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অবস্থিত আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫০৭তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার অ্যাডভান্সড কোর্স আয়োজনের তথ্য উল্লেখ করা হয়।


বিজ্ঞাপন

ওই সরকারি মনোনয়নপত্রে অংশগ্রহণকারীদের তালিকার ২৮ নম্বরে “জনাব হাসিবুল হাসান হাওলাদার” নামটি বৌলগ্রাম মুসলিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, রাজৈর, মাদারীপুর পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে হাসিবুল হাসান হাওলাদার বর্তমানে শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তাদের অভিযোগ, কলেজের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ে স্কাউটের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো হয়েছে, যা সরকারি নথির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছুটি বা প্রশাসনিক অনুমোদন গ্রহণ না করেই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ উপলক্ষে প্রদেয় ভাতা, যাতায়াত বিল বা অন্যান্য সরকারি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিষয়টি ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থার নজরে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডিএসবি, এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

তাদের মতে, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে একজন কলেজ শিক্ষক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন অথবা যথাযথ অনুমোদন ছাড়া সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তবে তা সরকারি বিধি-বিধান, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের সামিল হতে পারে।

এদিকে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত হাসিবুল হাসান হাওলাদার, শহীদ সরদার সাজাহান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বৌলগ্রাম মুসলিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা বাংলাদেশ স্কাউটসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এ অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি নথিপত্র যাচাই, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বৈধতা, কর্মস্থল থেকে ছুটির অনুমোদন এবং কোনো সরকারি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

👁️ 304 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *