আটোয়ারীতে লাউয়ের বাজারে ধস, উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম কৃষকের

Uncategorized অর্থনীতি গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বানিজ্য বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

সঞ্জু সৌরভ, (পঞ্চগড়)  :  পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাউয়ের ফলন ভালো হলেও বাজারে মিলছে না ন্যায্যমূল্য। কোথাও মাত্র এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ, আবার কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম ২ থেকে ৫ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে একই লাউ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য অনেক কম হওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কেউ বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন, আবার কেউ লাউগাছ কেটে ফেলছেন।


বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লাউচাষিদের এমন দুরবস্থার চিত্র দেখা গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এক কেজি মোটা চাল কিনতে প্রায় ২০০টি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। আর কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় তিন হাজারটি লাউ বিক্রির টাকা। দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম জানান, ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে এখন পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।


বিজ্ঞাপন

একই নামের আরেক কৃষক বলেন, লাউ চাষ করে কী পরিমাণ লোকসানে পড়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দুই থেকে তিন হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গবাদিপশুকেও খাওয়াচ্ছেন। অথচ বাজারে সেই লাউই প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম বলেন, লাউয়ের দাম না থাকায় গত ১০ দিন ধরে বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন তিনি। একদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ ক্ষেতের লাউ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পিস।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে ফসল বিক্রি করতে হলে কৃষকের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন। কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য দাম না পেলে একসময় মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী বলেন, এবার আটোয়ারীতে লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। বাইরের বাজারেও আশানুরূপ দাম না থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভালো ফলনও তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারেনি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের দাম নিশ্চিত করা এবং কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আগ্রহ হারাতে পারেন অনেকে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

👁️ 25 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *