
নিজস্ব প্রতিবেদক : আধুনিক যুদ্ধের কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক কম খরচের কামিকাজে ড্রোন (Loitering Munition) ব্যবহার করে বড় সামরিক শক্তির ব্যয়বহুল অস্ত্র ও স্থাপনায় কার্যকর হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরান ও ইউক্রেনের বিভিন্ন সংঘাতে এ ধরনের ড্রোনের কার্যকারিতা সামরিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সহযোগিতায় বগুড়ায় সাধারণ অ্যাটাক ড্রোন—যা হামলা চালিয়ে পুনরায় ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম—উৎপাদনের জন্য একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে কামিকাজে ড্রোন উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশগুলোর জন্য কম খরচের কামিকাজে ড্রোন একটি কার্যকর ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে এসব ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, সাঁজোয়া যান, রাডার ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে আড়ালে অবস্থান নেওয়া সেনাসদস্য বা কৌশলগত অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিভিন্ন সংঘাতে আলোচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশের জন্য ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতে স্বল্প ব্যয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের অভিমত, তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে সাধারণ অ্যাটাক ড্রোন উৎপাদনের পাশাপাশি কামিকাজে ড্রোন প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনেও দ্রুত অগ্রসর হওয়া সময়ের দাবি।
তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এ ধরনের সক্ষমতা উন্নয়নের পাশাপাশি কার্যকর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাইবার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা বিবেচনায় রেখে সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
