কবিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কমিটি নিয়ে বিতর্ক   : প্রতিনিধি মনোনয়নে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ? 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি   (নোয়াখালী)  :   নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারী অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা একটি সরকারি পত্রে ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ওই তালিকার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে কথিত রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ থাকায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক নং-উশিঅ/কবির/নোয়া/২০২৬/৩৮৫-এ উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের স্মারক নং-৪১.০১.৭৫৪৭.০০০.০০০.০৬.০০০১.২৬.৬৯(২)-এর আলোকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কার্যক্রমের ইউনিয়ন কমিটিতে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন করে প্রধান শিক্ষককে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়নের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।

নথিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য যেসব শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের পাশে কথিতভাবে “আওয়ামীলীগ” এবং কয়েকজনের পাশে “জামাত” লেখা রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, নাকি এটি অননুমোদিত সংযোজন।

সমালোচকদের দাবি, যদি সরকারি নথিতে রাজনৈতিক পরিচয় যুক্ত করে প্রতিনিধি বাছাই করা হয়ে থাকে, তবে তা সরকারি চাকরিজীবীদের নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। অন্যদিকে, নথির এসব রাজনৈতিক পরিচয়ের সত্যতা এবং এগুলো সরকারি নথির আনুষ্ঠানিক অংশ কি না, সেটিও যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রশাসনিক কমিটি গঠনে রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো সুযোগ আছে কি না এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে কি না।


বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত রাজনৈতিক পরিচয়গুলো ব্যবহারকারীর সরবরাহ করা নথির তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিচয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও এখনও পাওয়া যায়নি।

👁️ 308 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *