
নিজস্ব প্রতিনিধি (কক্সবাজার) : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি খাসজমি দখল, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি নিয়ে আলোচনায়। সাম্প্রতিক সময়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এলাকাটিকে ঘিরে নতুন করে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির সঙ্গে প্রচারিত দাবিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যেখানে রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা, সেখানে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রভাববলয়, পাহারা, প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ-পানির মতো নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা গড়ে উঠল?
জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী চক্রের প্রভাব থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে দেওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের প্রশ্নও গুরুতর : এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু এসব সংযোগের কতগুলো বৈধ, কতগুলো অবৈধ এবং কার অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে—এ প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

কারণ, কোনো এলাকায় যদি সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি গড়ে ওঠে, অথচ সেখানে নিয়মিত বিদ্যুৎ-পানির মতো সেবা পৌঁছে যায়, তাহলে শুধু দখলদারদের দায় নয়—কোন পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থার নজরদারি, অনুমোদন বা সহযোগিতা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’—কেন এমন অভিযোগ?
জঙ্গল সলিমপুরের ক্ষেত্রে ‘আরেক রাষ্ট্র’ বা ‘আলাদা রাজ্য’—এ ধরনের শব্দ সংবাদে ব্যবহার করলে সেটিকে অভিযোগ বা রূপক অর্থে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতাগতভাবে নিরাপদ। কারণ, এলাকাটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডেরই অংশ।
তবে দীর্ঘদিন সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশে বাধা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব, নিজস্ব নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং অবৈধ দখলের অভিযোগ থাকায় এমন উপমা কেন তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা জরুরি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলাকাটিকে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—জঙ্গল সলিমপুরে এতদিন ধরে কারা কীভাবে এই অবকাঠামো ও প্রভাববলয় গড়ে তুলল, সরকারি জমি দখল হলো কীভাবে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এলো কার মাধ্যমে এবং প্রশাসনের কোন স্তরে এর তথ্য ছিল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে হলে বিদ্যুৎ সংযোগের গ্রাহক/মিটার তথ্য, বিতরণ লাইনের অনুমোদন, ভূমির রেকর্ড, স্থানীয় প্রশাসনের নথি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগের অভিযানসংক্রান্ত প্রতিবেদন—সব একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
