
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে মাদকের বিরুদ্ধে আবারও জোরালো অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২,১০০ পিস ইয়াবাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই অভিযানে জব্দ করা হয়েছে মোট ৩৫০ গ্রাম গাঁজা।
অভিযানে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে মোহাম্মদপুরের বছিলা গার্ডেন সিটি এলাকায়। সেখানে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২,১০০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট। জব্দকৃত ইয়াবার ওজন ২১০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা গার্ডেন সিটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. সুজন (৩০) নামে একজনকে ওই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ক্রমিক নম্বর ১০(খ) অনুযায়ী মোহাম্মদপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উত্তর মুগদায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার : রাজধানীর উত্তর মুগদার মদিনাবাগ এলাকায়ও অভিযান চালিয়েছে ডিএনসির আরেকটি দল। পরিদর্শক কাজী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মো. শফিকুল ইসলাম (৫৪) নামে একজনকে ১২০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মুগদা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মেরাদিয়ায় ৪০ পুঁড়িয়ায় ১৫০ গ্রাম গাঁজা : খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়া ভূঞাপাড়া রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শহীদুল ইসলাম (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দখল থেকে ৪০টি পুঁড়িয়ায় থাকা ১৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার টাকা।
পল্টনে ইয়াবাসহ আটক : পল্টন থানাধীন এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে নির্মল মোহন্ত (৩৫)-কে ২০ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার ওজন ২ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার টাকা।
কাপ্তান বাজারে গাঁজাসহ দুইজন : অন্যদিকে, কাপ্তান বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মো. জনি (৩৫) ও মো. রেজাউল (৪১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দখল থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার টাকা। ডিএনসি জানিয়েছে, ৩ থেকে ৫ নম্বর ক্রমিকের আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ : রাজধানীতে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার মাধ্যমে মাদক কারবার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
