!! মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২ জন গ্রেপ্তার, পলাতক মাদকব্যবসায়ী রাকিব; এর আগে ‘গডফাদার’ কবুতর মমিনের বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৪৩ লাখ টাকা !!


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে ফের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকব্যবসার অভিযোগে ব্যবহৃত একটি বাড়ি থেকে হেরোইন, গাঁজা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় মাদকব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা মো. রাকিব ইসলাম (২৬) পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরীর বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)। অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫ গ্রাম হেরোইন, ২ কেজি গাঁজা এবং মাদক ব্যবসার নগদ ১৭ হাজার টাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)-এর উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম কড়াইল বস্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

অধিদপ্তরের কাছে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল, বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠ এলাকায় জনৈক মো. কালু মিয়ার ভাড়া দেওয়া তিনকক্ষবিশিষ্ট একটি বসতবাড়ি থেকে মো. রাকিব ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন
অভিযানে মো. আল-আমিন ওরফে সাকিব (২৩) এবং মো. মোজাম্মেল হক (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় কথিত মাদকব্যবসায়ী মো. রাকিব ইসলাম (২৬) পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক মো. রাকিব ইসলাম। তারা রাকিব ইসলামের পক্ষে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে সহযোগিতা করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
এক অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অভিযান৷ :
কড়াইল বস্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে সর্বশেষ এ অভিযানটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬, একই এলাকায় অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক ‘গডফাদার’ কবুতর মমিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল।
ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার নগদ ৪৩ লাখ টাকা উদ্ধার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বরের অভিযানে রাকিব ইসলামের ভাড়া করা বাড়ি থেকে হেরোইন, গাঁজা ও নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় কড়াইল বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ডিএনসির তৎপরতা আরও জোরালো হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
উদ্ধার যা হয়েছে : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে— হেরোইন: ৫ গ্রাম, গাঁজা: ২ কেজি, মাদক ব্যবসার নগদ টাকা: ১৭ হাজার টাকা
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— ১. মো. আল-আমিন ওরফে সাকিব (২৩) ২. মো. মোজাম্মেল হক (৩২) অভিযানের ঘটনায় মো. রাকিব ইসলাম (২৬) পলাতক রয়েছেন।
মাদক আইনে মামলা : গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় বাদী হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মো. ইমদাদুল হক খাঁন। বনানী থানায় এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর) মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।
কড়াইল বস্তিতে পরপর অভিযানে মাদক ও মাদক ব্যবসার অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর মাদকবিরোধী কার্যক্রমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
