
আরমান হোসেন রাজু, (রংপুর). : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবির (ব্ল্যাকমেইল) চাঞ্চল্যকর মামলায় মো. আল-আমিন (৩০) নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১৩ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর মহানগরের ভাওরাইদ মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার—আল-আমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তাঁর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন তিনি গোসলখানায় প্রবেশ করলে জনি নামের এক আসামি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে ওঁৎ পেতে থাকা আল-আমিন তাঁর গলা চেপে ধরে পুনরায় ভেতরে নিয়ে যান। এরপর জনি ও আল-আমিন পর্যায়ক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং জনি তাঁর মুঠোফোনে এই অসংলগ্ন ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিওটি আসামিরা নিজেদের মধ্যে স্থানান্তর করে এবং ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য চাপ দিতে থাকে। পরবর্তীতে গত ২ আগস্ট মাহবুব আলম নামের মামলার অপর এক আসামি ভুক্তভোগীকে ওই ভিডিও দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। কাঙ্ক্ষিত টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে র্যাব বিষয়টিতে নজরদারি বাড়ায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গোপন সংবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার সাথে জড়িত বাকি ৪ আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
