
ছাতক, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি৷ : সুনামগঞ্জের ছাতকে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়াকে গণপিটুনির ঘটনায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর, রাত আনুমানিক ২৩:০০ থেকে ১১ টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ছাতক পৌরসভার তাহির প্লাজার সামনে পাকা রাস্তায় উত্তেজিত জনতা কর্তৃক এক ব্যক্তিকে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
ওই সময় রাত্রিকালীন কিলো-২ (নাইট) ডিউটিতে থাকা এসআই সালাউদ্দিন মোল্লার বিষয়টি নজরে আসে। তিনি রাত ২৩:৩৪ ঘটিকায় থানার ওসিকে জানান যে, শতাধিক উত্তেজিত জনতা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিচ্ছে।

তাৎক্ষণিকভাবে ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এসআই সালাউদ্দিন মোল্লাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে এসআই সালাউদ্দিন ওসিকে জানান, ওই ব্যক্তি গুরুতর জখম হওয়ায় তার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেছেন। ওসি তখন তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানার নির্দেশ দেন।
পরে জানা যায়, আহত ব্যক্তির নাম হাজী স্বপন মিয়া (৫০), পিতা মৃত আব্দুল মান্নান, সাং সারপিন নগর, নরসিংপুর ইউনিয়ন, থানা দোয়ারাবাজার, জেলা সুনামগঞ্জ। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটে রেফার করেন। পরে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশে নিয়ে যান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় থানার রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে পুলিশি হেফাজতে না রেখে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আহত যে কোনো ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অধিকার রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
তাই ওসি কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ ও সহকারী পুলিশ সুপার, ছাতক সার্কেলকে মুঠোফোনে অবহিত করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, হাজী স্বপন মিয়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া গত ২২ জুলাই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে ছাতক থানাধীন গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন কর্তৃক সংগঠিত ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
এর প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রেখে এসআই সাহাবুল আলমের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দলকে তাকে গ্রেফতারের জন্য সিলেটের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় ধারাবাহিক অভিযানে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বনানী থানা এলাকা থেকে হাজী স্বপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি হাজী স্বপন মিয়া (৫২)-কে বিধি মোতাবেক ছাতক থানার মামলা নং-২৮, তারিখ- ২২ জুলাই ২০২৫, ধারা- The Special Powers Act, 1974 এর 15(3)/25-D মূলে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এসব তথ্যের পাশাপাশি প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে নিজেদের হীন ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে।
