
এ.কে পলাশ, (কুমিল্লা) : কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতীমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় তাকে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

এতে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়।
পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন পুলিশকে জানায়, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে ফাহাদের তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিনের দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে।
এতে তার মৃত্যু হলে তুহিন অপ্রতীমের মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার তুহিন কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও ২০২৫ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কামরুল হাসান কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া এলাকার বাসিন্দা। আটক সিয়াম আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ব্যবসায়ী এবং ‘ইয়েসটেক’-এর স্বত্বাধিকারী। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন (সিএস) আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।
