গাইবান্ধায় এআই প্রযুক্তিতে সরকারি কর্মকর্তা সেজে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেফতার ২

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর সারাদেশ

আরমান হোসেন রাজু, (রংপুর)  :  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল ও সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।


বিজ্ঞাপন

​শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা এসআরবি-১৩ ক্যাম্প থেকে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

​গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আইদুল হোসেনের ছেলে সোহেল মন্ডল (২৭) এবং একই গ্রামের হাসেম আলীর ছেলে হেলাল ইসলাম (২২)।


বিজ্ঞাপন

​ঘটনার পটভূমি ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার  : এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মোবাইলে ফোন করে প্রতারক চক্র। তারা জানায়, তার ছেলে তামিম আল মাহী বন্ধুদের সহ মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। ছেলেকে আইনি ঝামেলা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অজুহাতে তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।


বিজ্ঞাপন

​প্রতারণার মাত্রা বাড়াতে চক্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমিনুল ইসলামের ছেলের হুবহু কণ্ঠস্বর বানিয়ে শোনায়। ছেলের মতো কণ্ঠ শুনে বিভ্রান্ত হয়ে এবং চরম আতঙ্কে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম প্রতারকদের দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য হন।

​পরবর্তীতে সরাসরি ছেলের সঙ্গে কথা বলে আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত হন যে তার ছেলে আটক হননি এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর এসআরবি-১৩-এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রতারক চক্রের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১৩ (সিপিসি-৩)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোবিন্দগঞ্জের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করে।

​অভিযানে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত সোহেল মন্ডল ও হেলাল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি পাসপোর্ট এবং নগদ ১৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

👁️ 16 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *