গ্রাহকদের প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা তাফালবাড়ির রাজু

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার  (শরণখোলা)  :  শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের তাফালবাড়ি বাজার ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক মো.ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ডিপোজিট করা প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তাফালবাড়ি ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক বন্ধ রেখে ব্যাংক পরিচালক রাজু এখনো লাপাত্তা। এদিকে রাজু পালিয়ে যাওয়ার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা। প্রতারক রাজু একই ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী তাফালবাড়ি বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো.রাসেল শরীফ বলেন,২০২১ সালে তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করেন ওমর ফারুক রাজু। ব্যাংক পরিচালনায় রাজুর ব্যবহার ছিল প্রশংসনীয়। তাই ধীরে ধীরে সবার কাছে রাজু হয়ে ওঠে বিশ্বস্ত। তার বিশ্বস্ততার বলি হয়ে গত ৬ বছর ধরে স্থানীয় অসংখ্য নারী-পুরুষ ওই ব্যাংকে টাকা ডিপোজিট করে আসছিল।

তবে,ডিপোজিটের বিপরীতে লাখে দুই হাজার টাকা লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতো রাজু। এতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে কেউ ৩৫ লাখ,কেউ ৩০ লাখ, আবার কেউ ১০ লাখ টাকাও ডিপোজিট করতো। তাই জমাকারীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।


বিজ্ঞাপন

রাসেল বলেন, তিনি নিজেও তার বোনের ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছেন রাজুর ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে। তবে, টাকা জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আসল রসিদ না দিয়ে রাজু তার নিজের হাতে ভুয়া রসিদ তৈরি করে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দিতেন। এমনকি মোবাইলে ভুয়া কনফরমেশন ম্যাসেজও পাঠাতেন রাজু। যা গ্রাহকরা কখনো বুঝতে পারেননি।


বিজ্ঞাপন

একই বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী মো.রাসেল মীর বলেন,তার কাছে এক ব্যক্তি ৭ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। তিনি সেই টাকা নিজ বাড়ির পাশে ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে বিশ্বস্ত রাজুর কাছে জমা রাখেন। এখন শোনেন ব্যাংকের পরিচালক রাজু লাপাত্তা। বগী গ্রামের খালেক পঞ্চায়েত জানান, তাফালবাড়ি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে তার ৩৫ লাখ টাকা ডিপোজিট করা। তবে,তাকে যে জমা স্লিপ দেওয়া হয়েছে তা নাকি ভুয়া।

একই ঘটনা ঘটেছে খলিল সরদার,বাবুল হাওলাদার,জলিল ফরাজি, ছরোয়ার,বিউটি বেগমসহ প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাহকের সাথে। যাদের কারো ৩৫ লাখ,কারো ২০ লাখ,আবার কারো ১০ লাখ টাকা করে জমা আছে ওই ব্যাংকে। বিষয়টি ডাচ্ বাংলা ব্যাংক বাগেরহাট জেলা শাখাকে অবহিত করলে তারা এসে দেখেন, গ্রাহকদের জমাকৃত টাকার বিপরীতে যে জমা রসিদ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশই ভুয়া।

এসময় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন,যদি কেউ ব্যাংকের একাউন্টে টাকা জমা না রেখে ব্যক্তিগত কারো কাছে জমা রাখেন তার দায়ভার কখনো ব্যাংক নিবেন না। এছাড়া ব্যাংকে যাদের টাকা আছে তারা তার সঠিক ডকুমেন্টস দেখাতে পারলে অন্য শাখা থেকে তুলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী নাজমুল আহসান শিমুল গাজীসহ একাধিক ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন,এর আগেও রায়েন্দা বাজার ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের পরিচালক প্রিন্স গ্রাহকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে গেছে। তার বাড়িও সাউথখালী ইউনিয়নে। ওই ছেলেও দেখতে শুনতে সুদর্শন ও নম্র ভদ্র প্রকৃতির ছিলো। মানুষ এদের ভদ্রতার মুখোশে বিশ্বাসী হয়ে টাকা লেনদেন করে বিপাকে পড়েন।

এবিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, তাফালবাড়ি ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডাইরির আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি তনন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #

👁️ 18 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *