পঞ্চগড়ে চা উৎপাদনে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, মান নিশ্চিতে কারখানা পরিদর্শনে চা বোর্ড চেয়ারম্যান

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

সঞ্জু বনিক সৌরভ,  (পঞ্চগড়)৷  :  দেশের চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে উত্তরের সমতল ভূমি। বিশেষ করে পঞ্চগড়ে চায়ের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনে গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।


বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মান পর্যবেক্ষণে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দুটি চা কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার ‘বাংলা টি’ ও আজিজনগরে অবস্থিত ‘বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি’ পরিদর্শন করেন।

এ সময় কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে চায়ের গুণগত মান, উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষিদের সারসংকট এবং চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।


বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনের শুরুতে ‘বাংলা টি’ কারখানায় পৌঁছালে মালিকপক্ষ চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। পরে তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং চা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ঘুরে দেখেন।


বিজ্ঞাপন

এ সময় কারখানার মালিক শাহ আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চায়ের মানোন্নয়ন ও শিল্পের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

পরে তিনি ‘বিসমিল্লাহ টি ফ্যাক্টরি’ পরিদর্শন করেন। সেখানে কারখানার মালিক কাজী আনিছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়াসহ অন্যান্য পরিচালকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সামগ্রিক চা উৎপাদন ১৭ শতাংশ বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে উৎপাদন বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি। বর্তমানে শুধু পঞ্চগড় জেলাতেই চা উৎপাদন ২৫ মিলিয়ন কেজিতে দাঁড়িয়েছে। এ অগ্রগতি দেশের চা শিল্পে পঞ্চগড়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরছে।

চায়ের গুণগত মান রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানসম্মত চা উৎপাদনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার চায়ের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিটিআরআই) দ্রুত নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে পোকা দমনের গবেষণা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমতলের চা চাষিদের সারসংকট প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, চা চাষিদের জন্য সারের বিশেষ বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা এ বরাদ্দের সার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি চা শিল্পের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ. কে. এম. রফিকুল হক, পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় বক্তারা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের চাকে দেশ-বিদেশে আরও জনপ্রিয় করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

👁️ 19 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *