মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী গড়ার প্রত্যয়ে ওসি’র জিরো টলারেন্স নীতি  : “মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ মাদককারবারি গ্রেফতার, ৩২টি মামলা; ৮১ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান”

Uncategorized আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

মাসউদ রানা,স্টাফ ,( দিনাজপুর)  ;  মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান, নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম ।


বিজ্ঞাপন

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম চলতি বছরের আগস্ট মাসে থানায় যোগদানের পর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তার নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, গাঁজা ও চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ফুলবাড়ী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৮১ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের এ ধারাবাহিক কার্যক্রম মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজকে বিপথগামী করার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। তাই মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।


বিজ্ঞাপন

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন এবং মাদকমুক্ত দেশ গঠনে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আইনের আওতায় আনতে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক, মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

সচেতন মহলের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, মাদক নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন ও ক্যাব’র প্রতিনিধি, উপজেলা ক্যাব’র সভাপতি মাসউদ রানা বলেন, মূলত পুলিশের প্রধানতম কাজ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা। যেহেতু মাদক অপরাধ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে, সেহেতু পুলিশ মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে থাকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’র ভূমিকা আরো শক্তিশালী হওয়া উচিত। এছাড়াও সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডকেও আরো সক্রিয় হতে হবে এবং মাদকদ্রব্যের সঙ্গে মাদক পাচারকারীকেও ধৃত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সার্বিকভাবে, ফুলবাড়ী থানা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পুলিশের দৃঢ় অবস্থান এবং জনসাধারণের সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ফুলবাড়ীকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা আরও বেগবান হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

👁️ 16 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *