
রাঙামাটি প্রতিনিধি : ফটিকছড়ি উত্তরে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সাঙ্গুর নিজস্ব প্রতিনিধি ও ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি সাংবাদিক আজগর সালেহীকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ভূজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জিডিতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলামকে উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের হাসনাবাদ মুন্সিপাড়ার মোহাম্মদ রফিকের ছেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ‘ভূজপুরে ১৫ লাখ টাকার রাবার জব্দ, কভার ভ্যানসহ আটক ৩’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিন চট্টগ্রাম শহরে পাচারের সময় একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কেজি চোরাই রাবার উদ্ধার করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জাহেদ সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ভূজপুর থানায় চুরির মামলা করেছে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ, মামলা নং- ১৭; তারিখ ২০ অক্টোবর ২০২৬।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ ক্যাডার জাহেদুল ইসলাম, রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক আজগর সালেহী তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের জেরে গত ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ১২ মিনিট ও ১০টা ১৪ মিনিটে ০১৭৭৭-৪০৭৭৭৭ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হয়। এ সময় তাঁকে অপহরণ করে হত্যা এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আরও বলা হয়, ফোনে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা আবু তৈয়বের ডান হাত বলে পরিচয় দেন। তাঁদের একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহের কাজে দাঁতমারা ও বাগানবাজার ইউনিয়নসহ উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় গেলে সাংবাদিক আজগর সালেহীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
জিডিতে অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরকারবিরোধী ফেস্টুন ও ব্যানারসংবলিত পোস্ট এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনের আহ্বানসংক্রান্ত পোস্ট থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিক আজগর সালেহী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজন সাংবাদিক, সংগঠক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিককে হুমকির বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, “জিডিটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জমির উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন। তাঁরা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের শামিল। তাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাহীন পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
