
নইন আবু নাঈম (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সম্প্রতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির হিড়িক, মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্য এবং প্রবাসীর পথরোধ করে মারধর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, এসব অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে মাদকের ভয়াবহতা ও চিহ্নিত বখাটে চক্রের তৎপরতা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে চুরির উপদ্রব মারাত্মক রূপ নিয়েছে। রাতের আঁধারে ঘরের সিঁদ কাটা, দোকান ও বসতবাড়ির তালা ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং দামি আসবাবপত্র চুরির ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, ভ্যান ও অটোরিকশার ওপর চোরচক্রের কুদৃষ্টি পড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের মৃত আ. রব তালুকদারের ছেলে দরিদ্র ভ্যানচালক মো. শাহ আলম তালুকদারের (৫০) একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান সুপারি গাছের সাথে তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় চুরি হয়ে যায়।

আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ওই ভ্যানটি হারিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—এসব অপরাধের সিংহভাগ ঘটনার সাথেই স্থানীয় চিহ্নিত মাদকসেবী ও কারবারিরা জড়িত। নেশার টাকা জোগাড় করতেই যুবকদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে এসব অপরাধে।
প্রবাসীর ওপর হামলা ও চাঁদা দাবি: শুধু চুরিই নয়, গত ২৮ অক্টোবর শরণখোলায় এক প্রবাসীর পথরোধ করে মারধর, মুঠোফোন ছিনতাই এবং ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মধ্য কদমতলা গ্রামের মো. ইউসুফ মীরের ছেলে প্রবাসী মো. ইমান মীর গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় পশ্চিম কদমতলা এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন।
ওই সময় উত্তর কদমতোলার মৃত শাহ আলম শিকদারের ছেলে মো. নাঈম শিকদার (২৬) এবং একই এলাকার ছৈয়দ আকন (৫৫) তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ইমান মীর ও তার সঙ্গীর দুটি স্মার্টফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন এবং ২০ হাজার টাকা চাঁদা অথবা স্বর্ণের চেইন দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য: এসব বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, পুলিশ এসব ঘটনা সম্পর্কে অবগত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে। চুরির ঘটনা ও প্রবাসীর অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপকূলীয় এই জনপদে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, মাদক নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ এলাকাবাসী।
