যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে? অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস কী বলছে

Uncategorized আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   :  যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। কাল মঙ্গলবার,৩ নভেম্বর ২০২৬,অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে অতীতের নির্বাচনী ইতিহাস, জনমত জরিপ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ ।নিউ জার্সির সংবাদমাধ্যম NJ.com-এ প্রকাশিত লরেন স্ফোরজার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারিয়ে থাকে।


বিজ্ঞাপন

ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের আসন হারানোর নজির  :  ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৩৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত গত ২২টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ২০টিতেই প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে (House of Representatives) আসন হারিয়েছে। ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের সময় এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়।

২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে প্রায় ৪০টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে রিপাবলিকানরা সিনেটে দুটি আসন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে ৬৩টি আসন অর্জন করে। অন্যদিকে ২০২২ সালে জো বাইডেনের শাসনামলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে নয়টি আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়িয়েছিল।


বিজ্ঞাপন

কংগ্রেসে দুই দলের বর্তমান অবস্থান  :  প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি আসন রয়েছে।


বিজ্ঞাপন

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের কমপক্ষে ২১৮টি আসন প্রয়োজন। অন্যদিকে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি  :  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, RealClearPolitics-এর জরিপের গড় হিসাবে ট্রাম্পের জনসমর্থন প্রায় ৩৮ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

এমারসন কলেজের প্রকাশিত একটি জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এবং ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জরিপ; নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নয়।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা  :  প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নির্বাচনী লড়াই আরও জটিল। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন থাকায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে না; এটি প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের নীতি, আইন প্রণয়ন এবং আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব  :  যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অতীতের নির্বাচনী ফলাফল ভবিষ্যতের ফলাফল নিশ্চিত করে না। ভোটার উপস্থিতি, স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারণার প্রভাবও ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারে কি না, নাকি ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়।

👁️ 180 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *