ই-ভ্যালির প্রতারণায় কাঁদছে গ্রাহক

এইমাত্র অপরাধ অর্থনীতি জাতীয় জীবন-যাপন বানিজ্য

অভিযোগের পাহাড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ সুনাম অর্জন করেছে ই-ভ্যালি। এই কোম্পানিটি মূলত অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করলেও তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের রয়েছে হাজারো অভিযোগ। অল্প দামে ই-ভ্যালিতে অনলাইনে অর্ডার করে পণ্য কিনছেন অনেকেই। দাম অল্প হলেও বর্তমানে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাচ্ছে না গ্রাহকরা। বিভিন্ন সময় প্রোডাক্ট অর্ডার করে গ্রাহকরা পড়ছে ভোগান্তিতে। ক্যাশব্যাক দেওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের পরও সেই টাকা ফেরৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা এমনও অভিযোগ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মাসের পর মাস ই-ভ্যালির অফিসে ঘুরেও সেই টাকা ফেরৎ পাচ্ছে না অনেকেই। একটি পণ্য অর্ডার করলে তার জন্য অপেক্ষা করতে হয় অনেক দিন; এমনকি কিছু কিছু পণ্যের জন্য তো ৬ মাসও অপেক্ষা করতে হয়। আবার অনেকেই আছেন যারা ই-ভ্যালিতে অর্ডার করে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এখনো পণ্যটি হাতে পাননি। পণ্য বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিচ্ছে ই-ভ্যালি। শুধু তাই নয়; পণ্য না দিতে পারলে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরৎ দিতেও গড়িমসি করে এই প্রতিষ্ঠান। সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে মঙ্গলবার ই-ভ্যালির আইটি সেক্টরের আসিফের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা নেয়া হয় তা ব্যাংকে জমা দিয়ে দেওয়া হয়। তাই সময়মতো গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ করতে পারে না।
ই-ভ্যালির আরেকজন কর্মকর্তা শাহীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গ্রাহকদের এ নিয়ে অভিযোগের কমতি নেই। তবে খুব দ্রুত এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবে ই-ভ্যালি।
এদিকে আইন বলছে, এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে ই-ভ্যালি দ-বিধি, ১৮৬০-এর পাঁচটি ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর দুটি ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর একটি ধারা অমান্য করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে এসব আইন অমান্য করার বিষয়গুলি উল্লেখ করে গতমাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। তার আগে এসব ব্যাপার জানিয়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সাতটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ-বিধি ১৮৬০ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইন ২০০৯ অনুযায়ী অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পর সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা। এর শাস্তি এক থেকে তিন বছরের সশ্রম কারাদ-। এর আগেও ই-ভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের নামে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করে সোনার অলংকার বিক্রেতা কোম্পানি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড। গুলশান থানা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশান থানা সূত্রটি সকালের সময়কে আরো জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়াই ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের লোগো ও নাম ব্যবহার করেছে ই-ভ্যালি। তাদের লোগো ব্যবহার করে নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়েলারি পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শন করছে ইভ্যালি। যার কারণে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এই মামলাটি করে।
সরেজমিনে ই-ভ্যালির অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, বেশকিছু যুবক অফিসে বসে আছে। তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ১০০ সিসি একটি মোটরসাইকেলে জন্য গত বছরের জুলাই মাসে আমি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। যার বাজার মূল্য ৮২ হাজার টাকা। ৮২ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল মাত্র ৫০ হাজার টাকায় পাচ্ছি বলে আমি টাকাটা দিয়েছি। তারা আমাকে বলেছিল এর জন্য ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ছয় মাস পার হয়ে গেলেও আমি আমার পণ্যটি পায়নি। তাদের কাছে বললে বলে যে কিছু দিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। আমার টাকা ফেরৎ চেয়েছি; তারা আমার টাকাটা দিতেও গড়িমসি করছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, ক্যাশব্যাক অফারে গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ দিচ্ছে না এই প্রতিষ্ঠান। বরং গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ না দিয়ে তারা তাদের নিজের ওয়ালেটে রেখে দিচ্ছে। আবার পণ্য কেনার সময় গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না এই প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহকরা আরো অভিযোগ করেছেন যে, টাকা দেওয়ার পরে ই-ভ্যালির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। তাদের হটলাইন নম্বর, সাপোর্ট ই-মেইল, ইভ্যালি অ্যাপ্লিকেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাযথভাবে যোগাযোগ করা যায় না। তারা আমাদের ম্যাসেজ বা ফোনের কোনো সাড়া দেয় না।
সূত্র থেকে জানা যায়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ই-ভ্যালি বিরুদ্ধে এক হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছিল। যা এখন আরো অনেক বেশি।
দেশের বাইরে থাকার কারণে ই-ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ই-ভ্যালির জনসংযোগ কর্মকর্তা মিসবা’র সঙ্গে কথা হলে তিনি সকালের সময়কে বলেন, এ ধরণের অভিযোগ এর ব্যাপারে স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমি আপনাকে জানাবো। আমরা লিখিতভাবে আপনার ই-মেইলে আপনার উত্তরগুলো পাঠিয়ে দিবো। তবে আপাতত স্যার দেশের বাইরে থাকার কারণে এ ব্যাপারে বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।