সংঘাত-প্রতিঘাতে ৪র্থ ধাপের ভোট

এইমাত্র জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : চতুর্থ ধাপের পৌর নির্বাচনও শেষ হলো সংঘাত, প্রতিঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে। নির্বাচনকে ঘিরে ছিল ভোটার এবং প্রার্থীদের নানা অভিযোগ। এর আগে তিন দফায় অনুষ্ঠিত পৌরসভার ভোটের দিন সহিংসতার পাশাপাশি নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সেই কথা মাথায় রেখেই বাড়তি সতর্কতা নিয়ে মাঠে ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবুও গোলাগুলি, বোমা বিস্ফোরণ, সংঘাত, প্রতিঘাত, হতাহত, ভোট বর্জন, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাঁধা, এজেন্ট বের করে দেয়া, ইভিএম নষ্টে ভোট বন্ধ, প্রার্থী আটকসহ নানা অভিযোগ ছিল চতুর্থ ধাপের এই নির্বাচনকে ঘিরে। দেশের ৩৪টি জেলায় মোট ৫৫টি পৌরসভায় গতকাল ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিন সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার নির্বাচনের দিন বরিশালের মুলাদীতে উত্তর-পূর্ব চরডিগ্রী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে আ’লীগের এজেন্টের মারামারি হয়েছে। দেখিয়ে দেয়ার নামে ইভিএমের ব্যাটনে মেয়র পদে চাপ দেয়ার অভিযোগে বিএনপি মেয়র প্রার্থী আল মামুন প্রথমে বাঁধা দেয়। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট ধাক্কা দিলে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে কেন্দ্রের বুথের মধ্যেই মারামারি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে কঠোর নিরাপত্তা ছিল নরসিংদীতে। তবুও এই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই স্থানীয় ইউ এমসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক কাউন্সিলর প্রার্থী। আটক করা হয়েছে একজনকে।
এদিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত দুইজন। এর আগে সকালে চট্টগ্রামের তিন পৌরসভা চন্দনাইশ, পটিয়া ও সাতকানিয়ায় শান্তিপূর্ণভাবেই পৌর নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছিল। এরমধ্যে পটিয়ায় সবকটি কেন্দ্রে ইভিএমে এবং চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া পৌরসভায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেয়া হয়। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভায়ও কঠোর নিরাপত্তায় ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু হয়। কেন্দ্রগুলোতেও সকাল থেকেই ছিল নারী-পুরষের দীর্ঘ লাইন। এই এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া পৌর নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে গোলাগুলিতে আবদুল মাবুদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা পটিয়া আনসার ভিডিপি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করে। অপরদিকে একই পৌরসভায় আবদুল খালেক নামে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে অপহরণের অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি ১নং ওয়ার্ডের প্রার্থী। খালেক এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌর নির্বাচনে বোমা বিস্ফোরণ ও সহিংসতায় মোহন (১৮) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। লালমনিরহাটের সাপ্টানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রতীকের সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন। এ সময় কয়েকজনের মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টাও করা হয়। লালমনিরহাটের বত্রিশহাজারী ও শহীদ শাহজাহান কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা, ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত চারজন আহত হয়েছে। অন্যদিকে লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে ১০ জন আহত হন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে সকালে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বাড়তে থাকে। সকালে শহরের রসুলপুর কেন্দ্রের বাইরে সড়কের উপর কিছুটা বিশৃংখলার সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
এর আগে চতুর্থ ধাপে নির্বাচনের জন্য ৫৬টি পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। পরে সোনাইমুড়ি ও ত্রিশাল পৌরসভা এ ধাপে যুক্ত হয়। অন্যদিকে হাইকোর্টের আদেশে নাটোর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফেনীর পরশুরাম পৌরসভায় সব পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এখানে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভা নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধের পর ফের তা চালু হয়। এছাড়া সহিংসতার ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ভোট স্থগিত করে ইসি। এজন্য সব মিলিয়ে গতকাল ৫৫টি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ৫৫টি পৌরসভায় মেয়র পদে লড়েছেন মোট ২১৭ জন; সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৭০ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৬১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। চতুর্থ ধাপে সাধারণ ওয়ার্ড ৫০১টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৬৭টি। ভোটকেন্দ্র ৭৯৩টি। মোট ভোটার ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৪।