সিভিল সার্জনদের সমালোচনা করলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনার ভ্যাকসিনের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে বলায় সিভিল সার্জনদের সমালোচনা করলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। লকডাউনের মধ্যে হাজার হাজার কর্মীর কষ্ট করে ঢাকায় আসার প্রশ্নের জবাব সিভিল সার্জনদের দেওয়ার জন্যও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় ৭১ মিলনায়তনে সৌদিআরবগামী কর্মীদের কোয়ারেন্টিন খরচের ভর্তুকির চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ইমরান আহমদ বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নীচে অনেক মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য ভিড় করেছে। আমি নিজে দেখে আসলাম, তাদের সঙ্গে কথা বলে আসলাম। তারা অনেকেই নোয়াখালী কুমিল্লাসহ দেশের অনেক প্রান্ত থেকে কষ্ট করে এসেছেন। তাদের তো এখানে আসার কথা ছিল না। কিন্তু এটা দায়িত্বহীনতা বলেন আর যাই বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন একটি সার্কুলার দিয়ে দিয়েছেন যে ভ্যাকসিনের জন্য মন্ত্রণালয় যেতে। মন্ত্রণালয় কিন্তু এই ধরনের কোনও সার্কুলার দেয়নি। উনি সেটা কীভাবে দেন? আর এটার ভিত্তিতে সবদিকে ছড়িয়ে গেছে টিকার জন্য মন্ত্রণালয় আসতে হবে। এটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার। আমি জানি না ঐখানে সিভিল সার্জন সাহেব কীভাবে থাকেন। গতকাল ইস্যু করা হয়েছে আজকে সেটা প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওনাদের কারণে এই যে হাজার হাজার মানুষ এই লকডাউনের মধ্যে এসে হাজির হয়েছেন। এই কষ্টের জবাব কে দেবে? আমার মনে হয় সিভিল সার্জন সাহেবকেই দেওয়া উচিত। পরে শুনলাম আরও দুই একজন সিভিল সার্জন নাকি একই সার্কুলার দিয়েছে। ভ্যাকসিনের বিষয়টা হাতে নেই, এটা আপনারা অনেকেই জানেন। ভ্যাকসিন যা আসবে প্রথমেই পাবে যারা প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ বঞ্চিত আছে।’

টিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সৌদিতে সমস্যা আছে, ওনারা চীনের ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে রাজি না। আমরা কিন্তু এর মধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলে আলাপ করছি। সৌদি সরকারকে আমরা বলেছি যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন যেটা আগে করেনি এখন অন্যান্যরা করেছে। যখন দিয়েছে তাহলে উনারা এটা গ্রহণ করতে পারে। দেখা যাক এই কূটনৈতিক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মূল যে সমস্যা দুই মাসের সেটা কিন্তু থেকে যায়। এটার সমাধান হচ্ছে এক টিকা। সেই ব্যাপারে আমরা সরকারকে বলেছি জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আমরা প্রয়োজনীয় খরচ যদি মন্ত্রণালয় থেকে দিতে হয় সেটাও দিতে রাজি আছি।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বোয়েসেল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো বিল্লাল হোসেন, বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম এনডিসি, ওয়েজ আনার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রমুখ।