খাদ্য ঘাটতি পূরণ করেছি এখন লক্ষ্য পুষ্টি

জাতীয় জীবন-যাপন ঢাকা রাজধানী রাজনীতি সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছিলাম, সুষম পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা। আমরা খাদ্য ঘাটতি পূরণ করেছি। এখন লক্ষ্য পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা।
বৃহস্পতিবার সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ। দেশে বিভিন্ন ধরনের মাছ রয়েছে এবং সেগুলো অনেক পুষ্টিকর। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা এই মাছকে ঘিরে। এছাড়াও জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ অংশ এই মৎস্য সম্পদ থেকে আসে। আমিষের চাহিদার মধ্যে মাছের থেকে প্রায় ৬০ ভাগ পাই।
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশে যে মুক্ত জলাশয় বা পুকুর খালবিল যা আছে, সেগুলোকে আবার আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনবো। নদীগুলো ড্রেজিং কাজ করা হচ্ছে যাতে পানির প্রবাহ বাড়ে, পানির ধারণ ক্ষমতা যাতে বাড়ে, সেদিকেও আমরাও কাজ শুরু করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাদু (মিষ্টি) পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে এখন তৃতীয় স্থান। এটা জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা এই ঘোষণা দিয়েছে। আমরা মাছ বিদেশে রপ্তানি করি। রপ্তানির ক্ষেত্রে এর মানটা বজায় রাখা একান্তভাবে দরকার। আমাদের তেমন কোন ভাল ল্যাবরেটরি ছিল না। এরইমধ্যে আমরা কয়েকটি ল্যাবরেটরি তৈরি করেছি সেখানে যে মাছগুলো রপ্তানি করবো, সেগুলো যেন মান সম্মত হয়।
সমুদ্র সম্পদকে অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে হবে জানিয়ে মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ, নৌযান নিবন্ধন কার্যক্রমও গ্রহণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।
আসছে কোরবানি ঈদে যত্রতত্র কোরবানি বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি এলাকায় যেন কোরবানির জন্য সুনির্দিষ্ট জায়গা থাকে। কোরবানির চামড়াগুলো যেন ভালভাবে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রসেসিং করা হয়। একটা পশু যখন কোরবানি দেওয়া হয় তখন তার কিন্তু কোনোকিছু ফেলা যায় না। সবকিছু যেন সংরক্ষণ করে, যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
তিনি বলেন, কোরবানির সময় গ্রোসারি তৈরি করে সেখানে যার যার পশু নিয়ে যাবে, কোরবানি করবে, মাংস নিয়ে যাবে এবং বাকি জিনিসগুলো সংরক্ষিত থাকবে। সেই ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া প্রয়োজন। অবশ্য মাছের কথায় মাংস চলে আসল। কিন্তু আমি ভাবলাম, একটু যখন সুযোগ পেলাম, যেহেতু সামনে কোরবানির ঈদ, তাই এটা বলেই যাই। যাতে মন্ত্রণালয় তার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়।
এ বছর মৎস্য খাতে অবদানের জন্য আটটি স্বর্ণ ও নয়টি রৌপ্য পদক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সপ্তাহটি উদযাপন উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী ‘মৎস্য মেলা’ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় তিন দিনব্যাপী মৎস্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খানের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব রাইসুল আলম মন্ডল, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মোঃ রাশেদুল হক।
‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ শীর্ষক শ্লোগান নিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও দিবসটি পালিত হবে।