!! সেবার আড়ালে শত কোটি টাকার লুট !! ইবনে সিনা হাসপাতালে ভুয়া বিল–ভাউচারের মহাকেলেঙ্কারি !! নীতিনির্ধারক ডা. তাহেরের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ !! নীরব ট্রাস্ট—নড়েচড়ে বসছে দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সংগঠন সংবাদ স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা হাসপাতাল—যে প্রতিষ্ঠানের নামটি এতদিন আস্থার প্রতীক ছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এক ভয়াবহ আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ের আড়ালে ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

এই অনিয়মের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নাম।

রাজনৈতিক প্রভাব, শক্তিশালী সিন্ডিকেট : হাসপাতালের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলেও চাকরি হারানোর ভয় ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে সাধারণ কর্মী ও চিকিৎসকরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।


বিজ্ঞাপন

যন্ত্রপাতি কেনায় তিন গুণ দাম : ঠিকাদারির নামে ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত দুই অর্থবছরে হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কারচুপি: এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন আমদানিতে প্রকৃত মূল্যের তুলনায় তিন গুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

ভুয়া ভাউচার ও বিল : হাসপাতাল সংস্কারের নামে এমন সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হয়েছে, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

হিসাব বিভাগেও চাপ ও হুমকি : হাসপাতালের হিসাব বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান—
‘আমাদের হাত-পা বাঁধা ছিল। ডা. তাহেরের দপ্তর থেকেই সরাসরি ফাইল আসত। ভাউচারে মালামালের যে দাম লেখা থাকত, তা বাজারের দামের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলত না। আপত্তি জানালে উপর মহলের নির্দেশের দোহাই দিয়ে ধমক দেওয়া হতো। বাধ্য হয়েই সই করতে হয়েছে।’

ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা : এত বড় অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পরও ইবনে সিনা ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা প্রশ্ন তুলেছে নানা মহলে। ডা. তাহেরের বিরুদ্ধে কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

ট্রাস্টের প্রশাসন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন— ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমার নেই। তবে সাম্প্রতিক কিছু বিল ও ভাউচার নিয়ে অডিট বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে—এটা সত্য। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে দেখা হচ্ছে।’

ডা. তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যর্থ : অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নড়েচড়ে বসছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো : এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. মইনুল আহসান বলেন—‘বেসরকারি হাসপাতালের আর্থিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। ইবনে সিনার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খুবই গুরুতর।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান—’ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান –দুর্নীতি যেই করুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আমরা যাচাই করছি। প্রাথমিক সত্যতা মিললে ডা. তাহেরসহ সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব তলব করা হবে।’

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ : সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন—“সেবার জায়গা এখন লুটপাটের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।”

টিআইবি-দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন— ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে স্বাস্থ্যখাতে এমন লুটপাট সুশাসনের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। ট্রাস্ট পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে যদি এমন অনিয়ম হয়, সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

পুরো স্বাস্থ্যখাতের জন্য অশনিসংকেত : ইবনে সিনা হাসপাতালের এই কেলেঙ্কারি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নয়, বরং পুরো বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ডা. তাহের ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই অরাজকতা থামানো কঠিন হবে।

👁️ 30 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *