সমালোচনা আমাকে শক্তিশালী করে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেছেন, আমি সমালোচনা পছন্দ করি। কারণ এটা আমাকে শক্তিশালী করে। এই সমালোচনা অবশ্যই সঠিক হতে হবে। বুধবার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিলের ওপর বিরোধী দলীয় সাংসদের জনমত যাচাইয়ের আলোচনার পরে দেওয়া বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিন জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।

এসব সমালোচনার জবাব দিতে উঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সদস্যদের ধন্যবাদ।‌ ওনারা বেশ এনার্জি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। চালিয়ে যান, আমিও চালিয়ে যাবো আপনাদের সঙ্গে। কাজেই কোনও অসুবিধা হবে না। আপনারা দোষত্রুটি খুঁজে পাবেনই। সমুদ্রের মধ্যে দুই বালতি ময়লা ফেললে সমুদ্র নষ্ট হয়ে যাবে না, পানি নষ্ট হয়ে যাবে না।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আমরা কী করেছি স্বাস্থ্যখাতে আর আপনারা কী করেছেন- এ বিষয়টি একটু তুলে ধরতে চাই জনগণের সামনে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জানি আপনারা কী বলতে পারেন। তাই আজকে প্রস্তুত হয়ে এসেছি। সারাদিন লাগবে। কমিউনিটি ক্লিনিক ১৪ হাজার ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে ৩০ রকমের ওষুধ ফ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। আপনারা এসে ওটাকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এটা হলো স্বাস্থ্যসেবায় আপনাদের ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা তো উন্নয়ন করে পুরস্কার পেয়েছি। আর আপনারা পুরস্কার পেয়েছেন ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আমরা আর কিছু বলতে চাই না। আপনাদের বিষয়ে বলতে গেলে আমার সময় শেষ হয়ে যাবে। আজকে সংসদ জমছে ভালো। আপনারা কথা বলবেন, আমরাও উত্তর দেবো।

পরে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, বিএনপির সময় কি কোনও হাসপাতালে ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছিল? গত দশ বছরে যে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনও ব্যবস্থা আছে?

পরে হাসপাতালে ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়নি দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির হারুন সাহেব বলেছেন ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছে। কিন্তু এটা কোথায় হয়েছে আমার জানা নেই। এটা কেনা হয়নি। ভুল তথ্য দিলে জনগণ ভুল বুঝে, এটা সঠিক না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ হাজার ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি রয়েছে। এটা ব্যবহার হলে একটা সময় পরে তা নষ্ট হয়ে যায়। একটা সময় এটা ঠিক করতে হয়। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা আমরা করে যাচ্ছি।