জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যলয়ের অভিযান : জায়গীরহাটে ভুয়া ডাক্তারখানা সিলগালা

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় রংপুর সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি  : রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৭ নং লতিবপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জায়গীরহাটে ভাই ভাই ফার্মেসির সাইনবোর্ড লেখা রয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিষয়ে উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে ও হাট বাজারের লোকের নিকট থেকে প্রাপ্ত খবর এ জানা যায়, প্রতিদিন গ্রামগঞ্জের অসহায় মানুষদের ঠকানোর নিমিত্তে চলে মাইকিং কার্যক্রম। সেই মাইকিং এ থাকে বাহারী রংয়ের চমকপ্রদর্শন কথা, আর পাওয়া যায় সকল প্রকার দেশী-বিদেশী ওষুধ সুলভ মূল্যে।

এভাবেই সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে করেন মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা আর ডাক্তারী। বাইরে থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দোকান মনে হলেও ভেতরে পাওয়া যায় জীবনকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।

যে ওষুধগুলো খেলে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে একটি জীবননাশ। বুধবার ১৯ জুলাই বিকেলে মিঠাপুকুরের ঐতিহ্যবাহী জায়গীরহাটে ভাই ভাই ফার্মেসীতে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের টিম।অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের অফিস প্রধান ও উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম।


বিজ্ঞাপন

এছাড়াও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ বোরহান উদ্দিন বলেন, ফার্মেসিতে দেখা যায় খুব সুন্দর ভাবে প্রতিটি তাকে ওষুধ সাজানো রয়েছে ওষুধ। অভিযানের শুরুতে প্রতিটি তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খুঁজতে থাকেন সহকারী পরিচালক মোঃ বোরহান উদ্দিন।


বিজ্ঞাপন

যেখানেই হাত দেন মিলে যায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। প্রায় আধা ঘণ্টার অভিযানে দেখা যায়, দোকানের বেশির ভাগ ওষুধই মেয়াদোত্তীর্ণ। একটি ফার্মেসীতে এতো পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেখে ভোক্তা কর্মকর্তারাও অবাক। কোন ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক থেকে দুই বছর আগে। তারপরেও বিক্রির জন্য তাকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

উক্ত ভাই ভাই ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিয় ও সংরক্ষণ করে রাখার অপরাধে ভোক্তা-অধিকার আইন ২০০৯ অনুসারে ৫১ ধারায় দোষী সাবস্ত করে, ফার্মেসী মালিক ডাক্তার মোঃ মজনু মিয়াকে উপস্থিত না পাওয়ার কারণে ফার্মেসী সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি আরোও দুইটি ফার্মেসীকে সাড়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া পার্শের একটি কনফেকশনারীকে ভোক্তা স্বার্থবিরোধী অপরাধে ২০ (বিশ) হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় অফিস প্রধান ও( উপ-পরিচালক) মোহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম তিনি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে বলেন, যেকোনো পণ্য ক্রয় করার পূর্বে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ দেখে ক্রয় করবেন।

যদি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দেখেন তাহলে জাতীয়ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় তথ্য সহ অভিযোগ দায়ের করুন এবং প্রতিকার নিন। এছাড়া ১৬১২১ নাম্বারে কল দিয়েও যেকোনো ভোক্তা স্বার্থবিরোধী অভিযোগ দায়ের করতে পারেবেন পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন বলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় অফিসের প্রধান ও উপ-পরিচালক আজহারুল ইসলাম জানান ।

👁️ 143 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *