
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এই কার্যক্রম শেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আরিফ-উজ-জামান ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ, ১২ জনের বাতিল এবং ২ জনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে দাখিলকৃত ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৯টি বৈধ এবং ৪টি বাতিল হয়। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে অসংগতির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম, নাজমুল আলম ও মো. কাইয়ুম আলি খানের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া ঋণ খেলাপির অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষিত হয়।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— মো. সেলিমুজ্জামান মোল্লা (বিএনপি), এম. আনিসুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), সুলতান জামান খান (স্বতন্ত্র), মো. মিজানুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন), মো. জাকির হোসেন (জনতার দল), মোহাম্মাদ আবদুল হামিদ মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী), নীরদ বরন মজুমদার (সিপিবি), মো. প্রিন্স আল আমিন (এবি পার্টি) এবং ইমরান হুসাইন আফসারি (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ৬ জনের বাতিল হয়েছে। ভোটার সমর্থনে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া, শিপন ভূইয়া ও সিরাজুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া তথ্য গোপন করায় রনি মোল্লা, নথিপত্রের ঘাটতিতে মশিউর রহমান এবং ঋণ খেলাপির দায়ে উৎপল বিশ্বাসের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন— কে এম বাবর (বিএনপি), শাহ মফিজ (গণফোরাম), তসলিম হোসাইন সিকদার (ইসলামী আন্দোলন), শুয়াইব ইব্রাহিম (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মাহমুদ হাসান (জাকের পার্টি), দ্বীন মোহাম্মদ (গণ অধিকার পরিষদ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়। ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে অসংগতি থাকায় গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক ও রওশন আরার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব ও হলফনামায় ত্রুটির কারণে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ও আ. আজিজের মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন— এস এম জিলানী (বিএনপি), আবুল বশার (গণ অধিকার পরিষদ), মারুফ শেখ (ইসলামী আন্দোলন), মো. আরিফুল দাড়িয়া (জাতীয় নাগরিক পার্টি), শেখ সালাউদ্দিন (এনপিপি), আলি আহমেদ (খেলাফত মজলিস), এম এম রেজাউল করিম (জামায়াতে ইসলামী) এবং হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন এবং স্থগিত হওয়া প্রার্থীদের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
