গণপূর্তের ই/এম ডিভিশন–৮ ঘিরে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতার অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) ডিভিশন–৮-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবকে ঘিরে নিয়োগ, সিনিয়রিটি নির্ধারণ, পদোন্নতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও দায়িত্বশীল সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসন পর্যবেক্ষকরা।


বিজ্ঞাপন

নিয়োগ ও গ্রেড–৬ পদে যোগদান: কীভাবে সম্পন্ন হয় প্রক্রিয়া ?  অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিসিএস কাঠামোর বাইরে গ্রেড–৬ পদে যোগদান করেন। সরকারি ক্যাডার সার্ভিসে সাধারণত নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন–এর মাধ্যমে এবং চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

যাচাইযোগ্য প্রশ্ন  : তার নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট কি পিএসসি সুপারিশভিত্তিক? যোগদানের তারিখ ও গেজেট প্রকাশের তারিখ কি সামঞ্জস্যপূর্ণ? সার্ভিস বুক ও নিয়োগপত্রে গ্রেড নির্ধারণ কীভাবে উল্লেখ আছে? প্রস্তাবিত নথি : নিয়োগ গেজেট, সার্ভিস বুক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন।


বিজ্ঞাপন

২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিনিয়রিটি অবস্থান :  অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের পরে যোগদান করেও তিনি জ্যেষ্ঠতা তালিকায় অগ্রাধিকার পান এবং পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।


বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানযোগ্য বিষয় :  ২৭তম বিসিএস ব্যাচভিত্তিক সিনিয়রিটি তালিকা, তার যোগদানের কার্যকর তারিখ,
ডিপিসি (Departmental Promotion Committee) মিটিং মিনিটস, মূল প্রশ্ন: পদোন্নতির সময় জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে কি প্রচলিত সার্ভিস রুলস অনুসরণ করা হয়েছে ?

/এম ডিভিশন–৮ এ পোস্টিং প্রক্রিয়া : অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ই/এম ডিভিশন–৮ এ তার পোস্টিং অস্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন শামীম আখতার।

যাচাইয়ের বিষয় : পোস্টিং অর্ডারের কপি, বদলি বোর্ডের সুপারিশ, একই সময়ের অন্যান্য বদলির তালিকা, প্রক্রিয়াগত অনুমোদনপত্র, প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “উচ্চ ব্যয়সম্পন্ন ডিভিশনে পোস্টিং পেলে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়ে—এ কারণে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অপরিহার্য।”

এপিপি প্রাক্কলন ও কমিশন অভিযোগ : অভিযোগে বলা হয়েছে, বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (APP)–এর আওতায় প্রাক্কলন প্রস্তুত ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১০% কমিশন নেওয়া হয়।

বিশ্লেষণ কাঠামো : গত ৩ অর্থবছরের এপিপি তালিকা
BOQ (Bill of Quantities) বনাম বাজারদর তুলনা, একই ঠিকাদারের পুনরাবৃত্তি, প্রতিযোগিতাহীন টেন্ডারের হার,
সংগ্রহযোগ্য নথি:, টেন্ডার নোটিশ, কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট, ওয়ার্ক অর্ডার,মেজারমেন্ট বুক (MB), বিল ভাউচার, ডেটা বিশ্লেষণ প্রয়োজন এবং অনুমোদিত ব্যয় ও বাস্তব অগ্রগতির তুলনা।

১৩৮ কোড বরাদ্দ ও হাসপাতাল প্রকল্প  : অভিযোগ রয়েছে, ১৩৮ কোডের আওতায় হাসপাতাল প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন হয়েছে। যাচাই পদ্ধতি:, বরাদ্দ তালিকা সংগ্রহ, হাসপাতালভিত্তিক প্রকল্প তালিকা, সাইট ভিজিট বিল উত্তোলনের তারিখ বনাম কাজের অগ্রগতি তুলনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান: নির্বাচন কমিশন দপ্তর এবং মহাখালী হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অসন্তোষের বিষয়ে লিখিত নোট বা দাপ্তরিক চিঠিপত্র পাওয়া গেলে তা বিশ্লেষণের আওতায় আনা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য  : এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মো. আবু তালেবের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে।

উপসংহার: কেন প্রয়োজন স্বতন্ত্র তদন্ত  ? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগ, সিনিয়রিটি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত দায় নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও তৈরি করে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন— নথি-ভিত্তিক অডিট, আর্থিক নিরীক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক টেকনিক্যাল, ইন্সপেকশন এবং জ্যেষ্ঠতা পুনর্মূল্যায়ন।

👁️ 71 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *