সোনাকুড়ে রফিকুল হত্যা : ‘খুনি সরকারি কর্মচারী’ ইস্যুতে তোলপাড় ঝিকরগাছা !!  প্রধান ৪ আসামির ফাঁসি ও সহযোগীদের যাবজ্জীবনের দাবিতে উত্তাল জনপদ !! প্রশাসনিক নীরবতায় বাড়ছে প্রশ্ন ?

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, (যশোর)  :  যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাকুড় গ্রামে সংঘটিত রফিকুল ফকির হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রধান চার আসামির ফাঁসির দাবিতে সরব ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার ১ নম্বর আসামি একজন সরকারি কর্মচারী হওয়ায় প্রশাসনিক ভূমিকাকে ঘিরে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক।


বিজ্ঞাপন

প্রকাশ্য দিবালোকে রক্তাক্ত মেহগনি বাগান   : ২০২৩ সালের ২ জুলাই সকাল ১১টার দিকে সোনাকুড় গ্রামের জনৈক করিম সরদারের মেহগনি বাগানে রফিকুল ফকির (৪৫) ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানা-এ হত্যা মামলা (ধারা ৩০২/৩৪) দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।


বিজ্ঞাপন

এজাহারভুক্ত প্রধান চার আসামি  : মোঃ নাজমুল হোসেন সোহাগ , মোঃ তরিকুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল ইসলাম এবং মোঃ নূর ইসলাম বনো বর্তমানে চারজনই জেলহাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে, তবে পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

খুনি যখন সরকারি কর্মচারী   :   প্রশাসনিক নীরবতায় রহস্য :
মামলার ১ নম্বর আসামি নাজমুল হোসেন সোহাগ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ‘পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক’ পদে কর্মরত—এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, একজন হত্যা মামলার আসামি হয়েও তার চাকরির অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ঝিকরগাছা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অলিয়ার রহমান এ বিষয়ে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। জানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে অবগত নন যে তার অধীনে কর্মরত একজন পরিদর্শক হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি এবং বর্তমানে কারাবন্দি ? সরকারি চাকরি বিধিমালা (শৃঙ্খলা ও আপিল) ২০১৮ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ৪৮ ঘণ্টার বেশি কারাবন্দি থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার চাকরির বর্তমান অবস্থা, বিভাগীয় মামলা বা বরখাস্তের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না  ; অভিযুক্ত কর্মকর্তা কি এখনো চাকরিতে বহাল? তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কি ? তিনি কি এখনো রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন ? বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে কি না? এই অস্পষ্টতা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষ তদন্তের দাবি  : ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল মামলাটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধানের দাবি তুলেছে। তাদের মতে, প্রভাবমুক্ত তদন্ত ও নির্ভুল চার্জশিট নিশ্চিত করতে হলে মামলাটি পিবিআই বা সিআইডি’র মতো সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

ফাঁসি ও চাকরিচ্যুতির একদফা দাবি  ; নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর একদফা দাবি: প্রধান চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। পলাতক সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার।

অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় তদন্ত। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর। নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, “আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। যেন কোনো প্রভাবশালী চক্র খুনিদের বাঁচাতে না পারে।”

প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা  ;  সোনাকুড়ের এই হত্যাকাণ্ড এখন কেবল একটি ফৌজদারি মামলা নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনেরও পরীক্ষা। একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি প্রশাসনিক পদক্ষেপে বিলম্ব হয়, তবে তা জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।

ঝিকরগাছা এখন অপেক্ষায়—চার্জশিট, বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বিচারিক অগ্রগতির। রফিকুল ফকিরের পরিবারের প্রশ্ন একটাই: আইনের চোখ কি সবার জন্য সমান থাকবে?

👁️ 49 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *