গৃহায়ণ ও গণপূর্তে যুগ্মসচিব হিসেবে যোগদান করলেন প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা খলিল আহমেদ দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান, দক্ষ প্রশাসকের নতুন দায়িত্ব

জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা–৩) হিসেবে যোগদান করেছেন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা খলিল আহমেদ (৬৭১৮)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখের প্রজ্ঞাপনে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করা হয়। তিনি ৯ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


বিজ্ঞাপন

২০তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএসএস ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরেন তিনি। ২০১৪ সালে ঝিনাইদহে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে (আইএমইডি) পদায়ন করা হয়।

দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত (লেফট আউট) কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে নানা রাজনৈতিক অভিযোগের মুখে পড়লেও যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণেই তিনি প্রশাসনে টিকে ছিলেন। ব্যাচমেটরা যখন অতিরিক্ত সচিব হওয়ার দৌড়ে, তখনও তিনি উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলেও এরপর দীর্ঘ সময় তাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়।


বিজ্ঞাপন

ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদোন্নতিবঞ্চিত ২০১ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে খলিল আহমেদও সেই তালিকায় স্থান পান। এর মধ্য দিয়ে তার ওপর দীর্ঘদিনের অবিচারের অবসান ঘটে। যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতির পর তিনি আইএমইডি ও সুরক্ষা সেবা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা অধিশাখায় পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় নোয়াখালী জেলা কারাগার পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার পরিচয় দেন তিনি।


বিজ্ঞাপন

বর্তমানে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা–৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তাকে সদস্য করে মন্ত্রণালয়ের GPMS টিম পুনর্গঠন করা হয়েছে। তার বিষয়ে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন আশরাফ উদ্দীন রিজু কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, “খলিল স্যার খুবই ডাইনামিক ও প্রো একটিভ একজন অফিসার। তার সংগে অনেক আগে থেকেই কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তিনি আইএমইডি তে কর্মরত থাকাকালিন আমার বার লাইব্রেরি প্রকল্প, তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল, জিরানী, কোনাবাড়ি, চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিস প্রকল্প পরিদর্শন করেন, গাজীপুর এর পুলিশ লাইন সহ অনেকগুলো প্রকল্প পরিদর্শন করেন। স্লাইড ক্যালিপার্স, ড্রোন ক্যামেরা সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রকল্প পরিদর্শন একমাত্র তিনিই করেন। আমার মনে হয় আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য তিনি আর্শিবাদ হিসেবে অবতীর্ণ হবেন। আল্লাহ তাকে উত্তর উত্তর সমৃদ্ধি দান করুন।” সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তায় খলিল আহমেদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবেন।

👁️ 30 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *