মাগুরায় স্বৈরাচারের দোসর ‘মাশরুম বাবুল’-এর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারের দাবিতে সাংবাদিক সমাজের তীব্র মানববন্ধন

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

মাগুরা প্রতিনিধি :  সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের ‘অপরাধে’ দুই সাংবাদিককে মানহানি মামলায় জড়িয়ে কণ্ঠরোধের অপচেষ্টার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মাগুরার সাংবাদিক সমাজ। স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত ‘মাশরুম বাবুল’-এর দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধনে ফেটে পড়েন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। গতকাল শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১২টায় মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার প্রায় সব গণমাধ্যমকর্মী।


বিজ্ঞাপন

ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেসক্লাব চত্বর— “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ চলবে না”,
“দুর্নীতি ঢাকতে মামলা নয়—দুর্নীতিবাজের বিচার চাই”— এমন শ্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করে বলেন—
এই সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত দুর্নীতির ঘটনায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


বিজ্ঞাপন

রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি মো. ইউনুস আলী বলেন, “সাংবাদিকরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছে বলেই আজ মামলার মুখে পড়ছে। প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি—৭২ ঘণ্টার মধ্যে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”


বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি আকরাম হোসেন ইকরাম বলেন, “এ মানববন্ধন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়—এটি সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার লড়াই। আমরা পাঁচ দফা দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি পাঁচ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, অভিযুক্ত প্রকল্পে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,এবং গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা।

ফোরামের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে—এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের থামানো যাবে না। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না এলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”

এস এম শিমুল রানা (বাংলাদেশের আলো) বলেন, “আজ একজন সাংবাদিক আক্রান্ত, কাল এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য হুমকি হবে। আমরা চাই প্রকৃত অনিয়মের তদন্ত এবং পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন।”

রাশেদ খান (বাংলাদেশ প্রতিদিন) বলেন, “সাংবাদিকের কাজ সত্য প্রকাশ করা। তার জবাবে মামলা—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেত। আমরা ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিচ্ছি।”

মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন,
“অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে তদন্তের মাধ্যমে—মামলা দিয়ে নয়। পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নই সংকটের একমাত্র সমাধান।”

মাগুরা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিককে মামলার মুখে পড়তে হয়—তবে স্বাধীন সাংবাদিকতা বিপন্ন হবে।”

জেলা সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, “সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের কারণে মামলা হওয়া দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”

মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতারা পুনরায় ঘোষণা দেন—
৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অভিযুক্ত দুর্নীতির তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মাগুরায় এই মানববন্ধনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—দুর্নীতি ঢাকতে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজের বিচার চাই। কলম থামবে না—সংগ্রাম চলবে।

👁️ 26 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *