ঢাকার আমিনবাজার ভূমি অফিসে ঘুষের আখড়া : নাজির-ক্যাশিয়ার সাজেদুল ও সহযোগীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ, আতঙ্কে সেবাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল ভূমি অফিস—যেখানে নাগরিকদের জমি সংক্রান্ত সেবা পাওয়ার কথা সহজ ও স্বচ্ছভাবে—সেই অফিসেই গড়ে উঠেছে ভয়াবহ দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। অফিসটির নাজির কাম-ক্যাশিয়ার মো. সাজেদুল ইসলাম ও তার সহযোগী ফরহাদের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক সব অভিযোগ।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ মিয়া সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ঢাকা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, নামজারি, রেকর্ড সংশোধনসহ প্রায় সব ধরনের ভূমি সেবার ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, আবেদন বাতিল কিংবা নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। অভিযোগে একাধিক নামজারি মামলার নম্বর উল্লেখ করে সেখানে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের নির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বেনামে অভিযোগ তৈরি করে অর্থ আদায়ের কৌশল ?
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ সৃষ্টি করে একটি ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেন। পরে সেই অভিযোগ নিষ্পত্তির নাম করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভূমি অফিসে গেলেই আগে জানতে চাওয়া হয়—‘কত দিতে পারবেন?’ টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না।”


বিজ্ঞাপন

সাজেদুলের অতীত নিয়েও গুরুতর অভিযোগ : লিখিত অভিযোগে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে—মো. সাজেদুল ইসলাম পূর্বে পুলিশ বাহিনীতে এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য নিজে সেবন ও বাইরে বিক্রির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং চাকরি হারাতে হয়। পরবর্তীতে তিনি তার মামার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে আমিনবাজার ভূমি অফিসে বর্তমান পদে নিয়োগ পান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ডোপ টেস্টের দাবি : অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সাজেদুল ইসলাম নিজে মাদকাসক্ত এবং সাভার, আলমনগর ও আমিনবাজার এলাকায় একটি মাদকসেবী চক্রকে নিয়মিত মাদক সরবরাহ করেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার ডোপ টেস্ট করানোর দাবিও জানানো হয়েছে।

হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ  : অভিযোগে বলা হয়, অভিযোগ দায়েরের পর সাজেদুল ইসলাম ও তার পক্ষ থেকে অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে, তাকে বলা হয়েছে— “তার স্ত্রী পুলিশে চাকরি করেন এবং র‍্যাব-১০ এ কর্মরত রয়েছেন, চাইলে তাকে তুলে নেওয়া হবে।” এই বক্তব্য এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আগেও অভিযোগ, হয়নি তদন্ত  ?  লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু সেসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “ভূমি অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা পাচ্ছে না।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি : এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি : স্থানীয়রা অবিলম্বে—নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানাধীন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।

👁️ 71 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *