পোস্টার ছাড়া প্রচারণা, মাইক ছাড়া মাঠ—নতুন রাজনীতির মডেল নিয়ে ডা. তাসনিম জারা !

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক : ঢাকা-৯ আসনে  নির্বাচনী মাঠ মানেই পোস্টারের দেয়াল, মিছিলের ভিড় আর কানের কাছে বিদ্ধ করা মাইকের শব্দ—এটাই বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক চিত্র। কিন্তু ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা সেই চেনা ছবিটাই বদলে দিতে চাইছেন। তাঁর ভাষায়, “আমরা রাজনীতিকে মানুষের বিশ্বাসের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই।” সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, নির্বাচনের শুরুর দিকেই একটি অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন পথের সাহস দেয়।


বিজ্ঞাপন

স্বাক্ষর সংগ্রহে অভাবনীয় সাড়া : স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের আগে মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়েছিল। সময় ছিল অল্প, চ্যালেঞ্জ ছিল বড়। কিন্তু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁকে অবাক করে।

তিনি বলেন, “অনেকে এসে বলতেন—‘মা, আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’ কেউ বলতেন, ‘আমার মেয়ে আমেরিকায় থাকে, সে ফোন করে বলেছে—বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচার দিয়ে এসো।’ তখনই বুঝেছি, মানুষ এখন রাজনীতির সঙ্গে অনেক বেশি সম্পৃক্ত। আমাদের আসল শক্তি মানুষের আস্থা।” এই আস্থাই তাঁর প্রচারণার মূল ভিত্তি।


বিজ্ঞাপন

পোস্টার নয়, বিশ্বাসের প্রচার  :  নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতেই শহরজুড়ে পোস্টারের বন্যা। যদিও নির্বাচন কমিশন পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল, অধিকাংশ প্রার্থী সে নিয়ম মানেননি। শহর ঢেকে গেছে রঙিন কাগজে। কিন্তু তাসনিম জারা সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন।


বিজ্ঞাপন

“আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। একজন নাগরিক হিসেবে পোস্টারের জঞ্জাল আর উচ্চশব্দের মাইকিং আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই টিমকে বলি—আমরা পোস্টার লাগাব না, মাইকিং করব না।”

এই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা বলেন, “পোস্টার ছাড়া মানুষ জানবে কীভাবে আপনি দাঁড়িয়েছেন?” এমনকি এলাকাবাসীর কাছ থেকেও আসে ভালোবাসার অনুযোগ— “আপনার কোনো পোস্টার দেখি না, আপনি কি সত্যিই নির্বাচন করছেন?” মিছিল নয়, ব্যক্তিগত কথোপকথন তখনই তাঁর টিম নতুন করে ভাবতে শুরু করে—মানুষ কেন ভোট দেয়? তাসনিম জারা বলেন, “রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা মাইক বাজলেই কি মানুষ ভোট দেয়? বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস থেকে। আর সেই বিশ্বাস তৈরি হয় পরিচিত মানুষের আন্তরিক কথায়—বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মীর ফোনে।”

তিনি মনে করেন, “একটি আন্তরিক ফোনকল হাজার পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী।” এই দর্শন থেকেই জন্ম নেয় ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’—একটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ডিজিটাল ও নেটওয়ার্কভিত্তিক প্রচারণা উদ্যোগ।

নতুন রাজনৈতিক মডেলের স্বপ্ন :  তাসনিম জারার বিশ্বাস, “যদি আমরা প্রমাণ করতে পারি যে পোস্টার ছাড়া, মাইক ছাড়া, কোটি টাকা খরচ না করে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন—তাহলে ভবিষ্যতে এমন অনেক যোগ্য মানুষ রাজনীতিতে আসবেন, যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু দেশ বদলানোর ইচ্ছা আছে।”
তিনি যোগ করেন, “তখন রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হবে তাদের পুরনো চর্চা বদলাতে।”

ক্যাম্পেইনার মডেল—সহজ দুই ধাপে অংশগ্রহণ : প্রজেক্ট ঢাকা-৯ এর পোর্টাল সম্পর্কে তিনি জানান, “আমরা এটাকে যতটা সম্ভব সহজ রেখেছি। প্রথম ধাপে পোর্টালে ঢুকতেও হবে না। শুধু আপনার পরিচিত কাউকে ফোন করে বলবেন কেন আপনি আমাদের সমর্থন করছেন। তারা সমর্থন দিলে পরে পোর্টালে এসে জানাবেন কতজনের সাপোর্ট পেয়েছেন।” পরবর্তী ধাপে সেখান থেকেই ভোটার স্লিপ বা ইশতেহার পাঠানো যাবে।

শেষ আহ্বান : সাক্ষাৎকারের শেষে তাসনিম জারার কণ্ঠে দৃঢ় প্রত্যয়—“আপনার সাপোর্ট আমাদের কাছে শুধু একটা ভোট নয়। এটা প্রমাণ করবে—নতুন রাজনীতির এই মডেল কাজ করতে পারে কি না। যদি কাজ করে, দেশ বদলানোর একটি শক্তিশালী টুলকিট আমরা পেয়ে যাব।” সময় কম, প্রয়োজন মানুষের অংশগ্রহণ।

তিনি আহ্বান জানান— “ঢাকা-৯ এলাকায় আপনার পরিচিত কেউ থাকলে তাঁদের আমাদের কথা বলুন। একজন ক্যাম্পেইনার হিসেবে যুক্ত হোন।” ভিজিট: tasnimjara.com
তাসনিম জারা, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ঢাকা-৯ | মার্কা ফুটবল।

👁️ 71 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *