
বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু ভবন ইট-সিমেন্টের নয়—কিছু ভবন গড়ে ওঠে কৌশল, ক্ষমতা আর কৌতূহলের উপর। তেমনই এক ভবনের নাম ছিল “হাওয়া ভবন”। বাতাসে ভেসে বেড়ালেও, তার প্রভাব ছিল ভারী কংক্রিটের মতোই শক্ত।

সম্প্রতি তারেক রহমানের এক প্রশ্ন রাজনীতির পুরোনো অ্যালবাম আবার খুলে দিয়েছে— “বিএনপি সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত হলে জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?” প্রশ্নটি শুনতে সহজ, কিন্তু উত্তর ঢুকলেই দেখা যায়—ভেতরে একাধিক দরজা, প্রতিটিতে লেখা “শর্তসাপেক্ষ মিত্রতা”।
ছায়ার মতো সঙ্গী : তৎকালীন সময়ে সরকারকে ফেলে দিতে মাঠে নেমেছিল লীগ-ভারত-বাম-শাহাবাগ ঐক্য। চারদিক থেকে চাপ, ভিতরে বিভাজন। এমন সময় জামায়াত নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল— “দেশ নেত্রী একা থাকবেন না, দুর্নীতির মধ্যেও ছায়া হয়ে থাকবো।” রাজনীতিতে ছায়া সাধারণত সূর্যের দিকেই যায়। সূর্য তখন ক্ষমতায়—তাই ছায়া সঙ্গ ত্যাগ করেনি।

বিএনপির ভাঙনের মৌসুম : অন্যদিকে বিএনপির অন্দরমহলে তখন মনোমালিন্যের বর্ষাকাল। বি চৌধুরী, কর্নেল অলি—একজন করে বেরিয়ে গেলেন।

মান্নান ভূঁইয়া, মেজর হাফিজ, নাজমুল হুদা—ভেতরে ভেতরে “সংস্কারপন্থী”। দল যখন নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তখন বাইরের মিত্ররা হঠাৎ নীতিবাদী হয়ে পদত্যাগ করবে—এমন আশা রাজনীতিতে সাধারণত কমই দেখা যায়।
হাওয়া ভবনের প্রশাসন : সরকার ছিল একদিকে,
আরেকদিকে হাওয়া ভবন : একটি অদৃশ্য মন্ত্রণালয়, যেখানে সরকারের বাইরেই সরকারি সিদ্ধান্তের বাতাস বইতো।
অভিযোগ ছিল—সরকারের অংশ না হয়েও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ, হস্তক্ষেপ, প্রভাব বিস্তার। এতে দেশনেত্রী পর্যন্ত একসময় নাকি কথা বলা বন্ধ করে দেন। কিন্তু মিত্ররা তখন ভাবলেন—“বাড়ির ভেতর আগুন লাগলেও বাইরে দাঁড়িয়ে পালালে তো দোষ বাড়বে।” তাই তারা থেকে গেলেন।
দুর্নীতির প্রশ্নে পাল্টা দাবি : তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্নীতি বেড়েছে—এমন অভিযোগও উঠে।
অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি— “আমরা পাশে থেকে কমানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু বরপুত্র থামেননি।” রাজনীতিতে যখন দুই পক্ষই বলে “দোষ তোমার”, তখন জনগণ শুধু দেখে—দোষের খেলায় কার বল বেশি ভারী।
উপসংহার : বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শ, মিত্রতা আর নৈতিকতা—সবই চলে সময়ভিত্তিক চুক্তিতে। আজ যে প্রশ্ন করে, কাল সে-ই উত্তরদাতা হয়। আর হাওয়া ভবনের বাতাস আজও রাজনীতির অলিগলিতে ঘোরে—দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
