!! মন্তব্য প্রতিবেদন !! হামলা, দলবদল ও বিচার প্রশ্নে রাজনীতির নতুন সমীকরণ !

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   :  বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সহিংসতা, প্রতিহিংসা এবং দলীয় সংঘর্ষ নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে বড় দুই রাজনৈতিক শক্তি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—এর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব বহুবার রাজপথ থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


বিজ্ঞাপন

এই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা “আপোষহীন নেত্রী” খ্যাত খালেদা জিয়া-র গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়। সে সময় অভিযুক্তদের মধ্যে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর নেতাকর্মীদের নাম উঠে আসে।

আজকের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—যদি অতীতে হামলার সঙ্গে জড়িত কেউ দলবদল করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এ যোগ দিতে চায়, তবে সেই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রভাব কী হবে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বিচার কি হবে?


বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক বাস্তবতা বনাম নৈতিক অবস্থান  : বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল একটি প্রচলিত চিত্র। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজেন। তবে প্রশ্ন হলো—যদি কেউ গুরুতর সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তার রাজনৈতিক পুনর্বাসন কি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?


বিজ্ঞাপন

একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দলে টানতে আগ্রহী থাকে। অন্যদিকে, অতীতের সহিংসতার অভিযোগ উপেক্ষা করলে দলটির নৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে। বিশেষত যদি ঘটনাটি সরাসরি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়ে থাকে।

বিচার প্রশ্ন: প্রতিশোধ না ন্যায়বিচার  ?  “এবার কি ছাত্রলীগের বিচার হবে?”—এই প্রশ্নটি আবেগতাড়িত হলেও এর অন্তর্নিহিত বিষয় হলো আইনের শাসন। বিচার যদি হয়, তা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। কোনো সংগঠনের সামগ্রিক “বিচার” নয়, বরং নির্দিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনা—এটাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পথ।

রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভাষা (“জয়বাংলা করে দেওয়া” ইত্যাদি) পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতমুখী করে তুলতে পারে। বরং প্রয়োজন বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ।

দলবদল রাজনীতির ঝুঁকি  :  যদি অতীতের সহিংসতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা নির্বিঘ্নে নতুন দলে আশ্রয় পান, তবে তা কয়েকটি বার্তা দেয়— আদর্শের চেয়ে সুবিধাবাদ গুরুত্বপূর্ণ, অপরাধের চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থান বড়, বিচার প্রক্রিয়া দলীয় স্বার্থে প্রভাবিত হতে পারে, এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির চ্যালেঞ্জ :  বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সহিংসতার চক্র ভাঙা। অতীতে যে-ই ক্ষমতায় থাকুক, বিরোধী পক্ষের ওপর হামলা, মামলা বা নিপীড়নের অভিযোগ বারবার উঠেছে।

যদি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে সত্যিকারের পরিবর্তন আনা হয়, তবে প্রয়োজন—রাজনৈতিক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে দায়ীদের শাস্তি, দলবদলকারীদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে সহনশীলতা।

উপসংহার : ছাত্রলীগের বিচার হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে তার ওপর। বিচার যদি হয়, তা হতে হবে ব্যক্তি-ভিত্তিক, প্রমাণ-নির্ভর এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। আর দলবদল যদি হয়, তা যেন রাজনৈতিক দায়মুক্তির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে।

রাজনীতিতে পরিবর্তন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়  ; এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও পরিবর্তন। অতীতের সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতের জন্য সহনশীল রাজনীতি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে।

👁️ 40 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *