শরণখোলায় নানীর চায়ের দোকানেই স্বপ্ন বুনছে চার নাতি-নাতনি

Uncategorized খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার,  (শরণখোলা)  : ​বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজারের এক কোণে ছোট্ট একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকান। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ আর অভাবের সংসারের মাঝে সেখানে প্রতিদিন এক অন্যরকম দৃশ্য চোখে পড়ে। দোকানের একপাশে সিমেন্টের চট বিছিয়ে বই-খাতা খুলে গভীর মনোযোগে পড়াশোনা করছে চার শিশু—ইয়াসিন (৩য় শ্রেণি), আব্দুল্লাহ (৩য়), মরিয়ম (২য়) ও সুমাইয়া (১ম)।


বিজ্ঞাপন

​তারা সবাই ২৩নং চাল রায়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাবা-মা বেঁচে থাকলেও পারিবারিক টানাপোড়েন আর ভাগ্যের নিষ্ঠুরতায় তারা আজ মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত। এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ষাটোর্ধ্ব নানী মোসা. সালেহা বেগম।

​সালেহা বেগম জানান, অভাবের কারণে নাতি-নাতনিদের বাবা-মা গার্মেন্টসে থাকেন, খোঁজ নেন না ঠিকমতো। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। সারাদিন চা বিক্রি করে যা পান, তা দিয়েই ছয়জনের খাবার আর চার শিশুর পড়ার খরচ চালান। সালেহা বেগম বলেন, “কষ্ট হয় খুব, কিন্তু ওদের বই হাতে দেখলে সব ভুলে যাই। আমার স্বপ্ন—আমি না খেয়ে থাকলেও ওরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।”


বিজ্ঞাপন

​স্কুলের শিক্ষকরাও এই চার শিশুর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে অবাক। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসা. কলি জানান, “এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা ক্লাসে নিয়মিত এবং বেশ মেধাবী। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এরা অনেক দূর যাবে।”


বিজ্ঞাপন

​খেলার বয়সে ওরা বোঝে অভাব কী। ছোট্ট ইয়াসিন বলে, “বড় হয়ে অনেক টাকা আয় করে নানীর এই কষ্ট দূর করতে চাই। নানীকে আর চা বিক্রি করতে দেব না।”

দারিদ্র্য আর পারিবারিক অনিশ্চয়তা তাদের ঘিরে ধরলেও, এই চার শিশুর চোখে এখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তির সহযোগিতা পেলে এই চার নক্ষত্রের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারতো।

👁️ 34 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *