শরণখোলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা হত্যা  :  বিএনপি-জামায়েতর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, থানায় মামলা, গ্রেপ্তার-৩

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার, (শরণখোলা) :  বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের পিলের রাস্তা এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। ওই রাতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


বিজ্ঞাপন

এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। নিহতের মরদের উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম খুড়িয়াখালী গ্রামের মৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। মাসুম মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।


বিজ্ঞাপন

এঘটনায় নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে সোমবার (২মার্চ) দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।


বিজ্ঞাপন

উপজেলা বিএনপি ও পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।

এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রাথর্ী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে।

আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

অপরদিকে সাইথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে তার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে তাকে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে পরবর্তীতে কার্ডিয়াক অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্নও দেখা যায়। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি শামিনুল হক আরো বলেন, নির্বাচনকালী একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুম তার মোবাইলে ভিডিও করেন। সেই ভিডিওর বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ের তার ওপর হামলা হয়। এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন :  হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাময়াতে ইসলামী। বিএনপির এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে।

উক্ত ঘটনায় শরণখোলা উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনায় যে সকল ব্যক্তির নাম উল্লেখ বা মামলা করা হয়েছে তাদের কারো সাথেই জামায়াত বা শিবিরের সম্পর্ক নেই। আমরা খোঁখবর নিয়ে জেনেছি পারিবারিক সমস্যার জের ধরে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

👁️ 102 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *