বিটিভি চট্টগ্রামে ‘সিন্ডিকেট রাজত্ব : অভিযোগের পাহাড়ে জিএম ও নির্বাহী প্রযোজক, কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত চট্টগ্রাম জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) :  রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ।


বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট শিল্পী, কলাকুশলী ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করছে—কেন্দ্রটির বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইন (ইলন সফির)-এর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান নির্মাণ না করেই বিপুল অঙ্কের বাজেট উত্তোলন করছে। পুনঃপ্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ভুয়া বিল তৈরি, কাল্পনিক শিল্পীর নামে সম্মানী উত্তোলন এবং টেন্ডার ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন

শিল্পী সমাজের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রকৃত শিল্পীদের দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। যোগ্যতার পরিবর্তে সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা শুধু অন্যায় নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।”


বিজ্ঞাপন

এছাড়া, অভিযোগ উঠেছে—সহকর্মী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অপমান এবং হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সূত্রমতে, নির্বাহী প্রযোজক সফির হোসাইনের বিরুদ্ধে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি প্রায় ১ কোটি টাকার অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা যায়। যদিও এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এখনো কার্যকর কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

অন্যদিকে, জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ঈমাম হোসাইনের দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ‘চলতি দায়িত্ব’ নির্দিষ্ট সময়ের বেশি থাকার সুযোগ না থাকলেও তা অমান্য করা হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে দায়িত্বভাতা গ্রহণসহ নানা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে একটি গোষ্ঠী বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এর ফলে শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি ভয়ভীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

দাবি ও প্রত্যাশা : ক্ষুব্ধ শিল্পী ও কলাকুশলীরা অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া, তারা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

উপসংহার  : বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগগুলো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়—এটি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

👁️ 31 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *