
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকার শাহ আলী মাজার এলাকা—যেখানে প্রতিদিন ধর্মপ্রাণ মানুষের পদচারণা—সেই পবিত্র স্থানই পরিণত হয়েছিল মাদক বাণিজ্যের আখড়ায়। অবশেষে এই অন্ধকার জগতের বিরুদ্ধে জোরালো আঘাত হানলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

গত ১৮ মার্চ দুপুর ১টা ০০ মিনিটে পরিচালিত এক চাঞ্চল্যকর সাঁড়াশি অভিযানে ৭ জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাস এবং ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ। তাদের নেতৃত্বে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যসহ মোট ২৫ সদস্যের একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আটককৃতরা হলেন—মোঃ শান্ত (২৫), মোঃ মিরাজ (৩২), মোঃ হারুন (৩৮), দুলাল (৫৩), মোঃ মিলন (৫৫), এবং দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী পিংকি ওরফে স্মৃতি (২৫) ও মিনারা বেগম (৪০)।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই মাদক বিক্রিরপ্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল তারা। কিন্তু দ্রুত ঘেরাও করে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে কাগজের পুরিয়ায় সাজানো মোট ২ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ বিক্রির অর্থ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানস্থলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাস আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিজ হেফাজতে মাদক সংরক্ষণ, সেবন ও বিক্রয়ের অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শাহ আলী মাজারের মতো একটি পবিত্র ও সংরক্ষিত স্থানে মাদকের এমন দৌরাত্ম্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে মাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ধর্মীয় পবিত্রতার আড়ালে গড়ে ওঠা মাদকের এই নীরব সাম্রাজ্যে এই অভিযান যেন নতুন বার্তা—কোনো স্থানই আর মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ নয়।
