
নিজস্ব প্রতিবেদক : টেলিভিশনের পর্দায় ঝকঝকে উপস্থাপনা, মেকআপ আর আলোর ঝলকানি। কিন্তু এই আলোর নিচেই জমে আছে নিকষ অন্ধকার। সেই অন্ধকারের কারিগর—বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের নির্বাহী প্রযোজক শাফায়েত হোসাইন।

সহকর্মী নারী উপস্থাপিকাদের ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং’, অনৈতিক লালসা আর প্রভাবের দাপটে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন এই ‘ছদ্মবেশী’ সাংবাদিক, এ খবর সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের একাধিক সুত্রের।
বিষাক্ত কর্মপরিবেশ: মুখ খুললেই ‘আউট’ : অভিযোগ উঠেছে, শাফায়েত হোসাইন ডেস্কে বসে কলকাঠি নেড়ে ঠিক করেন কার ক্যারিয়ার উঠবে আর কার ক্যারিয়ার ডুববে।

সুন্দরী ও নতুন নারী উপস্থাপিকাদের টার্গেট করে শুরু হয় তার ‘মেন্টাল গেম’। ভালো শিডিউল আর জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের প্রলোভন দেখিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলা, আর তারপরই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং।

তার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দিলেই শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তুচ্ছ কারণে ‘ভুল’ ধরা, নতুন নিয়মের বেড়াজালে বন্দি করা এবং শেষমেশ পর্দা থেকে সরিয়ে দেওয়া – এই ছিল তার নিয়মিত অস্ত্র। গত মাসেই শাফায়েতের এই ‘টক্সিক’ আচরণের শিকার হয়ে চোখের জলে ডিবিসি ছেড়েছেন তিন নারী উপস্থাপিকা।
প্রভাবের ছায়া ও অর্থ আত্মসাৎ : শাফায়েতের খুঁটির জোর কোথায়? জানা গেছে, পরিচালনা বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজের অপকর্ম আড়াল করেন তিনি। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি কেবল নারীদেরই নয়, পুরুষ সহকর্মীদের ক্যারিয়ার নিয়েও ছিনিমিনি খেলছেন। স্পোর্টস ইনচার্জ তাইয়েব অনন্তকে ষড়যন্ত্র করে চাকরিচ্যুত করার নেপথ্যেও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই শাফায়েত।
তার অতীত আরও ভয়ংকর। জনপ্রিয় উপস্থাপিকা মৌসুমী মৌ-এর একটি স্পোর্টস শো-এর পুরো অর্থ আত্মসাৎ করার দায়ে একবার তার চাকরি গিয়েছিল।
দেশ টিভিতে গিয়েও স্বভাব বদলাননি তিনি। তবে অদৃশ্য কোনো জাদুবলে আবারও ফিরে আসেন ডিবিসিতে, শুরু করেন পুরনো খেলা।
নেতার ছবি ও ‘জুজুর ভয়’ : মিরপুরের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সাথে ছবি দেখিয়ে অফিসে রীতিমতো ‘জুজুর ভয়’ তৈরি করে রেখেছেন শাফায়েত।
কথায় কথায় নেতার দাপট দেখিয়ে সহকর্মীদের মুখ বন্ধ রাখতেন তিনি। যেন সংবাদকর্মী নয়, তিনি নিজেই এক মূর্তমান আতঙ্ক।
সম্প্রতি এক নারী উপস্থাপিকার সাথে তার গোপন কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর শাফায়েতের আসল চেহারা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ডিবিসি’র অন্দরে এখন চাপা উত্তেজনা।
