আদালতের স্ট্যাটাস কে  উপেক্ষা করে দখল-বাণিজ্য!   গৃহায়নের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য, অবৈধ বরাদ্দ বাণিজ্য এবং প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর স্পষ্টভাবে “স্থিতাবস্থা” (Status quo) বহাল রয়েছে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অভিযুক্ত চক্রটি জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ, দখল কার্যক্রম এবং বরাদ্দ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়েছে, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর সম্পত্তি অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে জাতীয় গৃহায়নের প্রায় ১৯ একর জমিও রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকার পরও কীভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়—এ প্রশ্ন এখন জনমনে বড় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, “স্ট্যাটাস কো থাকা অবস্থায় বরাদ্দ দেওয়া সরাসরি আদালত অবমাননা এবং ভয়াবহ দুর্নীতির শামিল।”

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওয়াকফা স্টেটের জমিতে গত ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী গরিব ও অসহায় মানুষ প্রতিনিয়ত প্রভাবশালীদের চাপে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করছে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কথিত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা এলাকায় চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। তিনি অবিলম্বে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোঃ মাহমুদুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তারা দাবি করেন, তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, অবৈধ বরাদ্দ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও কার ইশারায় চলছে এই দখল ও বরাদ্দ বাণিজ্য? কার ছত্রচ্ছায়ায় একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এত বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুললেন?

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আদালতের নির্দেশ অমান্য, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ওয়াকফা সম্পত্তি দখলের অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রূপনগরের দুয়ারীপাড়া পরিণত হতে পারে আরেকটি ভয়াবহ ভূমিদস্যু চক্রের অভয়ারণ্যে।

👁️ 36 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *