
নিজস্ব প্রতিনিধি, (নরসিংদী) : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবির মেহেরপুরে কর্মরত থাকা অবস্থায় নানা অনিয়ম ও ওষুধ টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে উপর মহলকে ম্যানেজ করে তত্ত্বাবধায়ক থেকে পদোন্নতি নিয়ে নরসিংদী জেলার সিভিল সার্জন পদে যোগদান করেন। একই সাথে নরসিংদী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পোস্টটিও শূন্য করে সেটিরও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তার বিরুদ্ধে মেহেরপুরের মতো একই অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সদ্য যোগদানকৃত সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক অপর এক ঠিকাদারের যোগসাজশে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই বর্তমান কর্মস্থলে বদলি হয়ে আসেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, ওই ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য এবং দরপত্র কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা সীমিত করার জন্যই পিপিআর-২০২৫ বহির্ভূতভাবে এই সকল শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
নরসিংদী সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানা যায়, নরসিংদী সদর হাসপাতালের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের জন্য প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির শর্ত নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ। ২৫-২৬ অর্থবছরের এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের ই-টেন্ডারটি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ বিষয়ে এক ঠিকাদারের করা রিটের শুনানি শেষে রোববার (৩ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ প্রকাশিত ই-টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

গত ১৬ এপ্রিল রেফারেন্স নম্বর : D.S.H/NAR/D.S.W/AD/2025-26/453 মূলে ই-টেন্ডারটি প্রকাশ করা হয়। এতে ১২৫৬৫৫৬ থেকে ১২৫৬৫৬১ পর্যন্ত ছয়টি টেন্ডার আইডির আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়।

রিটে বলা হয়, টেন্ডারের একাধিক শর্ত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০২৫ এর বিধি ৬৬-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিছু শর্ত দরপত্রদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সীমিত করতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একাধিক লটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মোট মূল্যের সমপরিমাণ কর জমার প্রমাণ, গত তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন, নির্দিষ্ট অর্থবছরের ভ্যাট স্মার্ট কার্ড এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যাংক লেনদেন ও সলভেন্সি দেখানোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা বিধিতে বাধ্যতামূলক নয়।
তা ছাড়া, প্রকাশিত টেন্ডারের শর্তে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ বছরের অডিট রিপোর্ট (DVC Report) ও নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ব্যাংক স্থিতি হিসেবে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা থাকতে হবে। যা পিপিআর-২০২৫ এর পরিপন্থী এবং এসব শর্তের ফলে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে নির্দিষ্ট পক্ষ সুবিধা পেতে পারে বলে রিটকারী অভিযোগ করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
