
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের রাজস্ব খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখা। যেখানে কর আদায়, ট্রেজারি চালান সংরক্ষণ, ক্যাশ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিপত্র রক্ষণাবেক্ষণের মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব পালন করা হয়। অথচ সেই সংবেদনশীল শাখাকেই ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন নাজির মিরাজ ইবনে মাহবুব—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, কমিশন বাণিজ্য, বিল-ভাউচার জালিয়াতি এবং দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। কর অঞ্চল ১০-এ বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ ও বিল অনুমোদনকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব। তার পছন্দের ঠিকাদার ও লোকজন ছাড়া সেখানে কোনো কাজ হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেওয়া তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো—নিজ অফিসের এক সহকর্মীর স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স খুলে সেই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক বিল-ভাউচার নিজেই উত্তোলন করেছেন তিনি। ফলে সরকারি অর্থ লোপাটের একটি গোপন চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল টেম্পার করে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির মাধ্যমেও অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি কোটিপতি বনে গেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।

কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখায় গেলে অনেকের কাছেই মনে হয়, মিরাজ ইবনে মাহবুব যেন কোনো প্রথম শ্রেণির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নিজের দপ্তরকে বিলাসবহুলভাবে সাজিয়ে তুলেছেন তিনি। অফিসের ভেতরে তার প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তার করেছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব। রাজস্ব খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনেও অর্থ লগ্নির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টানা প্রায় চল্লিশ দিনের আন্দোলনে প্রতিদিন গাড়িভর্তি লোক নিয়ে সেগুনবাগিচা থেকে অংশ নিতেন তিনি। ওই আন্দোলনে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব।
রাজস্ব বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, কর অঞ্চল ১০-এ কোনো কাজ করতে গেলেই অর্থ বা কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ে না। সাধারণ করদাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আলিশান বাড়ি নির্মাণ এবং একাধিক জমি কেনার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি চাকরির আড়ালে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন মিরাজ ইবনে মাহবুব—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর অঞ্চল ১০-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব দপ্তরে এ ধরনের দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য চলতে থাকলে শুধু সরকারের আর্থিক ক্ষতিই নয়, কর ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিরাজ ইবনে মাহবুব কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে তার মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো নাা। এদিকে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
